সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৪ জুলাই: ডিভিসি’র ৭৫ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ঝাড়খন্ডের বোকারো থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে আজ মেজিয়া পৌছালেন ডিভিসির অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব বিশ্বজিৎ সেন। সেখানে তাকে রাজকীয় সম্বর্ধনা জানানো হয়।
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ভারত সরকার দেশজুড়ে স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। সেই কর্মযজ্ঞ শেষ হবে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার প্লাটিনাম জুবিলির পূর্তি দিয়ে। সেই সময় ইংরেজ মুক্ত স্বাধীন ভারতে প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হল দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি। এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিবহনে ডিভিসি হল দেশের ১ নম্বর। সেই সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নাকি বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে এমন ইঙ্গিত রয়েছে দেশবাসীর কাছে। আগামী ৭ জুলাই ডিভিসির প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে গত ৩০ জুন ঝাড়খণ্ডের চন্দ্রপুরা থেকে কলকাতার সদর দপ্তর পর্যন্ত সাইকেল যাত্রায় বেরিয়েছেন ডিভিসির অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বিশ্বজিৎ সেন। ৬২ বছরের বিশ্বজিৎ সেন সোমবার ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এসে পৌঁছালে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেন মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ডিভিসি আবাসন সংলগ্ন লাগাপাড়ার কলোনি গেট থেকে তাকে সাইকেল র্যালি করে প্রকল্পের অডিটোরিয়ামে নিয়ে আসা হয়। সেখানেও আরেক প্রস্থ সংবর্ধনা দেন প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সুধীর কুমার ঝাঁ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

তাঁর সাইকেল যাত্রার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বজিৎ সেন বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা হল ডিভিসি। দামোদর নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংস্থাটি ছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহেরুর স্বপ্নের সংস্থা। বর্তমানে ডিভিসি শাখা প্রশাখা মেলে দেশ-বিদেশে তার কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বজিৎ বাবু বলেন, গত ৭৫ বছরে ধরে ডিভিসি দেশ ও জাতির প্রতি যে অবদান রেখেছে তা জনমানসে ছড়িয়ে দিতেই আমার সাইকেল যাত্রা। পাশাপাশি আমিও ডিভিসি পরিবারের একজন সদস্য। তারই অঙ্গ হিসাবে আমি চাই দেশবাসী জানুক তার কীর্তি এবং এই রকম রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলি জাতির প্রতি কতটা দায়বদ্ধ। তাই ডিভিসির মত রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলিকে রক্ষা করতে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। এই বার্তাই আমি দিতে চেয়েছি। আগামী ৭ জুলাই ডিভিসির প্রতিষ্ঠা দিবস। ওই দিনই সকালে বিশ্বজিৎ বাবু কলকাতার সদর দপ্তর পৌঁছাবেন। সেখানে থেকে তাঁকে কনভয় করে নিয়ে যাওয়া হবে সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে। ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ পাওয়ার সেখানে তাকে সংবর্ধনা দেবে বলে জানান মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডাইরেক্টর ওম প্রকাশ।
তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ সেন ডিভিসি পরিবারকে গর্বিত করেছেন। উনি ৩০ জুন ঝাড়খণ্ডের চন্দ্রপুরা থেকে সাইকেল যাত্রা শুরু করেছেন। তারপর বোকারো, তিলাইয়া, হাজারীবাগ, বেরমো, কোডারমা, পুটকি, মাইথন, পাঞ্চেত হয়ে এ রাজ্যের রঘুনাথপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঢুকেছেন রবিবার। সোমবার মেজিয়ায় কাটাবেন তিনি। মঙ্গলবার ডিভিসির অন্ডাল, দুর্গাপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘুরে মুচিপাড়া সাব-স্টেশন, বর্ধমান হয়ে হাওড়া পৌঁছাবেন বুধবার। বৃহস্পতিবার কলকাতার হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছে তার ৬৫০ কিমি সাইকেল যাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন ডিভিসির চেয়ারম্যান আর কে সিং।

