পিন্টু কুন্ডু, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ৮ ডিসেম্বর: দেশের সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে শত্রুপক্ষের বোমের আঘাতে কেউ হারিয়েছেন একটি পা, আবার কারো পায়ে লাগা গুলির আঘাত কেড়ে নিয়েছে শরীরের দুইটি পা’কেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার শিকারের পরেও জীবন সংগ্রামে হার না মানা এমন পাঁচ বিএসএফ সেনা জওয়ানকে সীমান্তে হাজির করলো হিলির ৬১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটেলিয়ন। যাদের আজ চলাফেরার অন্যতম ভরসাই কাঠের ও প্ল্যাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম পা। যার উপর ভর করেই সাইকেল নিয়ে ওই সেনা জওয়ানরা পাড়ি দেবেন প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা। দেবেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার মানুষকে জীবন যুদ্ধে হার না মানার বার্তাও। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত আট দিনের ওই র্যালির শুভারম্ভ হয় আজ।

১৯৭১ এর ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণ করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ওই পাঁচ যোদ্ধাদের দিয়ে দিব্যাং যোদ্ধা সাইকেল র্যালির আয়োজন করে ৬১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটেলিয়ন। হিলি হাইস্কুল মাঠে শহিদ বেদিতে মাল্যদান করে পতাকা নাড়িয়ে যে সাইকেল র্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএসএফের রায়গঞ্জ সেক্টরের ডিআইজি বিশাল রানে। যেখানে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৬১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের দ্বিতীয় আইসি যাতাশঙ্কর সিং সহ অনান্য সেনা জওয়ানরা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে ওই পাঁচ দিব্যাং যোদ্ধা ১৬ ডিসেম্বর পৌঁছাবে শিলিগুড়িতে। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র সেনা জওয়ানরাই নয়, সীমান্ত এলাকার বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে রয়েছে, তাদের মনোবল বাড়াতেই এই পাঁচ দিব্যাং যোদ্ধার এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন
ডিআইজি।
বিএসএফের রায়গঞ্জ সেক্টরের ডিআইজি বিশাল রানে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের অবদান বোঝাতে এই পাঁচ দিব্যাং যোদ্ধাদের দিয়ে সাইকেল র্যালির আয়োজন। যারা দেশের জন্য অঙ্গ হারিয়ে ফেললেও মানসিকভাবে হার মানেনি। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সেই মনোবল বাড়াতে তাদের এমন প্রচেষ্টা।

হরিন্দর সিং ও গুরুলাল সিং নামে দিব্যাং যোদ্ধাদের তরফে দুই বিএসএফ কনস্টেবল বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্ত পাহারার সময় মাইন বিস্ফোরণে এক পা হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাদের সদস্যদের প্রত্যেকেই কেউ গুলিতে আবার কেউ বিস্ফোরণে হারিয়ে ফেলেছেন দুটো পা। কিন্তু তারপরেও তারা জীবন যুদ্ধে হার মানেননি। সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনেকে এমন থাকলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাই তাদের প্রত্যেকের মনোবল বৃদ্ধি করতেই সীমান্তজুড়ে তারা ৩০০ কিলোমিটার সাইকেল র্যালি করছেন।

