সিপিএমের দেওয়াল লেখার সময় সেই দেওয়ালেই পদ্মফুল আঁকলেন ভারতী ঘোষ, দাসপুরে রাজনৈতিক জল্পনা

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ২৮ জুন:
গ্রামে গ্রামে ঘুরে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার করছেন একসময়ের পুলিশ অফিসার ভারতী ঘোষ। বর্তমানে তিনি বিজেপির রাজ্য সহ সভানেত্রী। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটের প্রচার করছেন। গ্রামের মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শুনছেন। তারই মাঝে আজ এক অভাবনীয় কন্ড ঘটালেন তিনি। দিপিএম প্রার্থীর প্রচারের দেওয়ালেই আঁকলেন বিজেপির প্রতীক পদ্মফুল।


আজ দলের মহিলা কর্মীদের নিয়ে দাসপুর ১ নং ব্লকের বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলমিজোড় পশ্চিম বুথ এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন ভারতী ঘোষ। দলের প্রার্থীর সমর্থনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। বহু মানুষের ভাঙ্গাচোরা ঘর দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেন তিনি। এক একটি পরিবার ২০/২৫ বছর ধরে সেই ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছেন। বৃষ্টিতে চাল দিয়ে জল পড়ে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি জোটেনি। এই দুর্দশা ফেরানোর জন্য এবং “শাসক দলের দুর্নীতির প্রতিবাদে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

ভারতী ঘোষ যখন কলমীজোড় এলাকায় প্রচার করছিলেন, সেই সময় ওই এলাকায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে দেওয়াল লিখছিলেন সিপিআইএমের স্থানীয় নেতা সেখ লিয়াকত আলি। তিনি দলের বুথ কমিটির সম্পাদক। হঠাৎ লিয়াকত আলির কাছে গিয়ে তাঁর থেকে রং তুলি নিয়ে পদ্মফুল আঁকতে শুরু করেন। লিয়াকত আলি প্রথমে অবাক হয়ে যান। তারপর ভারতী ঘোষের চাহিদা মত তাঁর হাতে রং এগিয়ে দেন। সিপিএমের প্রতীকের পাশেই রং তুলি দিয়ে পদ্মফুল আঁকলেন BJP নেত্রী। আর এতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এখানে সিপিএমের দেওয়াল বলে কিছু নেই, গ্রামের মানুষের দেওয়াল। মানুষ যাকে ভালো বুঝবেন তাকে ভোট দেবেন। ৩৪ বছর ধরে মানুষ দেখে এসেছে অনেক কিছু। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্রমিকদের লেলিয়ে দিয়ে আন্দোলন করা, কিন্তু শেষের দিকে সেই শ্রমিকরাই ভালো কাজ পাননি। অধিকাংশ পাটকল এবং কাখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩৪ বছর ধরে মানুষকে কিছু দিতে পারেনি সিপিএম। পাশাপাশি তৃণমূলের সমালোচনা করে বলেন, কী দিয়েছে তারা মানুষকে। গরিব মানুষের পাকাবাড়ি হয়নি। অধিকাংশ জায়গায় ১০০ দিনের কাজ পায় না। গ্রামের রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা। অথচ ফান্ডে টাকা এসেছে। টাকাগুলো কোথায় গেল? নেতারার তাদের বাড়িগুলো প্রাসাদ বানিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন, সেটাই বোঝাতে এসেছি গ্রামের মানুষকে।


ছবি: সেখ লিয়াকত আলি।

দেওয়াল লিখনের ব্যাপারে সিপিএমের সেখ লিয়াকত আলি অবশ্য অখুশি নন। তিনি বলেন, এটা দেখে খুবই ভালো লাগলো। উনার নাম আগে শুনেছিলাম। উনি আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি ছিলেন। আজ আমার সঙ্গে পরিচয় হল। দেওয়াল লিখুন না, মানুষ যাকে পছন্দ করবে তাকেই ভোট দেবে। মূল কথা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। এখানে অনেক দেওয়ালেই আমাদের পাশাপাশি লেখা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *