সোনালী গানের মূর্চ্ছনায় পুজো ভাসিয়ে দিতে চায় ভবানীপুর দুর্গোৎসব সমিতি

আমাদের ভারত, কলকাতা, ৯ জুলাই: “মায়াবতী মেঘে এল তন্দ্রা…’ কিংবা ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ অথবা ‘আই অ্যাম এ ডিস্কো ড্যান্সার – একের পর এক এইসব কালজয়ী গানের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়বে মণ্ডপজুড়ে। লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং বাপি লাহিড়ী— সদ্যপ্রয়াত তিন কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবছরের পুজো উদযাপন করবে ভবানীপুর দুর্গোৎসব সমিতি। থিম ‘দা গোল্ডেন নিউজিক্যাল এরা’।

মণ্ডপে থাকবে তিন শিল্পীর মূর্তি। বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে চলবে তাঁদের গানের লাইভ সম্প্রচার। সেই সঙ্গে নানা ছবি, বাদ্যযন্ত্রের কোলাজে তৈরি হবে এক অন্যরকম আবহ। সব মিলিয়ে সেই স্বর্ণযুগের গানের রঙিন স্মৃতি ফেরাতেই এই উদ্যোগ। এ বছরে ৫৭তম বর্ষে পা দিতে চলেছে এই পুজো। সেই উপলক্ষেই তাঁদের এই অভিনব পরিকল্পনা।

একটা সময় নিয়ম করে পুজোর সময় বার হত বিশেষ গানের রেকর্ড। থাকত সন্ধ্যা এবং লতার, সেই সঙ্গে অসংখ্য বাংলা গানের রেকর্ড। মিশে থাকত বাপি লাহিড়ীর নিজস্ব সুরের সিগনেচার।

টালিগঞ্জের ছবির জগতের শিল্প নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তারা পুজোর মণ্ডপ তৈরি করতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। ক্যাসেট, রিল, গ্রামোফোনের প্রতিকৃতি বানানো হবে। সেগুলি মণ্ডপজুড়ে লাগানো থাকবে। প্রতিমার পিছনের কাঠামো গ্রামোফোনের আকারে তৈরি করার ভাবনা-চিন্তা রয়েছে।

পুজো কমিটির পৃষ্ঠপোষক তথা সভাপতি সন্দীপরঞ্জন বক্সির কথায়, এই তিন শিল্পী নিয়ম করে পুজোর অ্যালবাম বার করতেন, যা বাঙালি দুর্গোৎসবকে অন্য মাত্রা দিত। আজও মণ্ডপে মণ্ডপে সেই গান অনবরত বাজে। সম্পাদক শুভঙ্কর রায়চৌধুরী বলেন, “থিমের সঙ্গে তাঁদের গান ছাড়া বাঙালির পুজো যেন ফিকে। তাই এই উদ্যোগ।“

লতা, সন্ধ্যা কিংবা বাপি প্রত্যেকের সঙ্গেই এই বাংলার বন্ধন অটুট ছিল। মুম্বইয়ের শিল্পী হলেও মারাঠি সুরসম্রাজ্ঞীর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক নিবিড় ছিল। প্রতি বছর নিয়ম করে দুর্গাপুজোয় বাংলা গানের রেকর্ড বের হতো লতা মঙ্গেশকরের। রমরমিয়ে পুজোমণ্ডপে বাজত সেই সব গান। বিশেষত ষাটের দশক থেকে প্রায় আশির দশক পর্যন্ত। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের একের পর এক তিন নক্ষত্রের পতন হয়েছে। মণ্ডপে তিন কিংবদন্তির মূর্তি বসানোর বিশেষ শ্রদ্ধাগুলির ভাবনা হয়েছে।

লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও বাপি লাহিড়ীর গান তো মণ্ডপে বাজবেই, পাশাপাশি গানের বাইরেও তাঁদের জীবনযাপনের কিছু অংশ উপস্থাপন করা হবে মণ্ডপে। ঠিক হয়েছে, বিশেষ গানের সঙ্গীতের থিমেই পুজো৷ তাই থিম সং তৈরি হচ্ছে একদম অন্যরকম। লতা, সন্ধ্যা এবং বাপিকে মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে থিম সং। পাশাপাশি বিশেষ দিনের উপরে একটি গানও বাঁধা হতে চলেছে বলেও জানা গিয়েছে। থাকবেন নামী শিল্পীরা। পাশাপাশি আলবাম বা ক্যাসেটের ছবিগুলির কোলাজ থাকবে। পুজোর ক’দিন চলবে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানও।

শুভঙ্করবাবু এই প্রতিবেদককে জানান, “আমাদের খুঁটিপুজো ২৪ জুলাই। থিম ‘সুরঞ্জলি’। বাজেট প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। পুজোর শ্লোগান— নো গান (বন্দুক), ওনলি গান।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *