আমাদের ভারত, ১ মে: অনুব্রত মণ্ডলের মেয়েকেও আদালত ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে তারও বাবার মতো তিহার জেলে ঠাঁই হয়েছে। এই ঘটনাকেই কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, বাঙালি সপরিবারে তীর্থ করতে যেতো, আর তৃণমূলের আমলে নেতারা সপরিবারে জেলে যাচ্ছেন।
গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত সুকন্যা মণ্ডলকে দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালত ১২ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। গত বুধবার গরু পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সুকন্যাকে। তারপরেই তাকে গ্রেফতার করে ইডি। গ্রেপ্তারির পর শনিবার পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল সুকন্যাকে। গরু পাচার মামলায় সাড়ে আট মাস আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তার বাবার তথা বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তারপর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে ছিল সুকন্যা। তখন থেকে বারবার ইডি তাকে ডাকলেও হাজিরা এড়িয়েছেন সুকন্যা। এই অসহযোগিতার কারণেই তাকে গ্রেফতার করে ইডি।আপাতত তার ঠাঁই হয় তার বাবার মতো তিহার জেলে।
এই ঘটনাকে কটাক্ষ করেই সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আগে বাঙালিরা আমরা সপরিবারে তীর্থ যাত্রা করতে যেতাম পূর্ণ অর্জনের জন্য। এখন তৃণমূলের আমলে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা সপরিবারে জেলে গেছেন। আর কদিন পরে আরও অন্য কোনো নেতাকে দেখব। এর আগে আমরা দেখেছিলাম নেতার সাথে তার বান্ধবী জেলে গেছে, এবার নেতার সাথে তার কন্যা।
সুকান্ত কেষ্ট ও তার কন্যাকে কটাক্ষ করাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানিয়েছেন।
উত্তরবঙ্গে একটি সভা থেকে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, ইডি সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে বিরোধীদের ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ইডি সিবিআই দিয়ে অন্য দলের মতো তাদের দলকে ঘরে ঢুকিয়ে রাখা যাবে না। আমাকে অনেকবার নোটিশ পাঠিয়েছে, যত নোটিশ পাঠাবে তত আন্দোলনের তীব্রতা বাড়বে।”
এর পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা ভয় দেখাচ্ছি না। উনি ভয় পাচ্ছেন। চুরি করলে অপরাধীকে সাজা পেতে হবে। ওনার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যদি বেহিসেবে টাকা ঢুকে থাকে তাহলে ওনাকেও জেলে যেতে হবে।” এরপরই কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “সবে কলির সন্ধ্যে। আমরা দেখতে পাচ্ছি বাবা মেয়ে পাশাপাশি দুটো ব্লকে তিহার জেলে রয়েছে। এরপর পিসি ভাইপো থাকবে, অসুবিধে কি রয়েছে?”

