বাংলা চর্চা-৭! হিন্দু

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৬ এপ্রিল: উইকিপিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, গেবিন ফ্লাডের মতে, “আসল পরিভাষা হিন্দু প্রথম দেওয়া হয় ফার্সি ভৌগোলিক পরিভাষায়। যেটির মাধ্যমে সিন্ধু নদীর পাশে বসবাসকারী লোকেদের বোঝানো হত। শব্দটি দিয়ে তখন ভৌগোলিক অবস্থান বোঝানো হত, কোনও ধর্মকে বোঝানো হত না। খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে আরব, পারসিক ও আফগানরা ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রথম ‘হিন্দু’ নামে অভিহিত করে। মধ্যযুগীয় ভারতের ঐতিহাসিক বিবরণীগুলি থেকে দেশীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বর্ণনায় ‘হিন্দু’ শব্দটির প্রয়োগের কথা জানা যায়। পরবর্তীকালে আরবি সাহিত্যেও ‘আল-হিন্দ’ শব্দটির মাধ্যমে সিন্ধু নদ অববাহিকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। 

ফেসবুকে পূজা সুকুল মুখার্জির ব্যাখ্যা, “হিন্দু শব্দটির সংস্কৃত অর্থ সিন্ধু। মূলত যারা সিন্ধু নদের তীরে বসবাস করত তাদের হিন্দু বলা হত অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার লোকদের। মুসলিমরা সংস্কৃত শব্দ সিন্ধু শব্দটিকে উচ্চারণটি করতে পারত না। তারা সিন্ধুকে হিন্দু (ফার্সি শব্দ) উচ্চারণ করত।“

৩৮ বছরের বাংলা অধ্যাপনায় অভিজ্ঞ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, “হিন্দু শব্দের অর্থ সিন্ধুতীরবর্তী, পরে সিন্ধু থেকে পূর্ব দেশের মানুষ। গ্রীকরা বলত ইন্ডিক। দেশ ও দেশবাচক শব্দটি আরবী আক্রমণের পর ধর্মাবলম্বী হয়েছে দ্বাদশ শতাব্দী থেকে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *