অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৯ জুন: ত্ব, তা, নী, ণী, সভা, পরিষদ, জগৎ, বিদ্যা, তত্ত্ব ইত্যাদি যদি অন্য শব্দের শেষে যোগ হয়, তা হলে কি আগের পদের ঈ-কার সব ক্ষেত্রেই ই-কার হবে?
ত্ব, তা, ণী, নী – এগুলো আলাদা কোনো শব্দ নয়। এদের আলাদা কোনো অর্থ নেই। এগুলো প্রত্যয়। একটি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য শব্দ সৃষ্টি করে। এবং যখন যুক্ত হয় তখন প্রথম পদের ঈ-কার সংযুক্ত শব্দে ই-কার হয়।
তাই মন্ত্রী, কিন্তু মন্ত্রিত্ব; স্থায়ী, কিন্তু স্থায়িত্ব। তেমনই দায়িত্ব (দায়ী), প্রতিদ্বন্দ্বিতা (প্রতিদ্বন্দ্বী), প্রার্থিতা (প্রার্থী), দুঃখিনী (দুঃখী), অধিকারিণী (অধিকারী), সহযোগিতা (সহযোগী) ইত্যাদি।
এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেনের মন্তব্য, ”সভা, পরিষদ, জগৎ, বিদ্যা, তত্ত্ব ইত্যাদি এক একটি অর্থযুক্ত শব্দ। এই শব্দ যখন অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয় আগের পদের ঈ-কারে কোনো পরিবর্তন হয় না। সুতরাং মন্ত্রিসভা নয়, মন্ত্রীসভা; তেমনই মন্ত্রীপরিষদ, মন্ত্রীমণ্ডলী, প্রাণীবিদ্যা, প্রাণীতত্ত্ব, প্রাণীজগৎ, প্রাণীসম্পদ ইত্যাদি।
তবে যে হেতু মন্ত্রিসভা, মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিমণ্ডলী ইত্যাদি শব্দ বহুল প্রচলিত তাই বাংলা আকাদেমি তাদের বানানবিধিতে দু’ রকম বানানই রেখে দিয়েছে।”
***

