অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৮ জুন: গতকাল হ্রস্ব ই দীর্ঘ ই নিয়ে চর্চা করেছি। সহজ পাঠ-এ ঠিক তার পরেই আমরা পড়েছিলাম ‘হ্রস্ব উ দীর্ঘ ঊ ডাক ছাড়ে ঘেউ ঘেউ’। উ ঊ-এর প্রয়োগ আমাদের অনেককে ভাবায়।
গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রাক্তন শিক্ষক সুদেষ্ণা মৈত্র সহজ পড়া-১, সহজ পড়া-২, বানান টানান, সহজ বাংলা ব্যাকারণ, রবীন্দ্রনাথ-নদী পথ পাখি প্রভৃতি বইয়ের লেখিকা। ‘বঙ্গদর্শন’-এ তিনি লিখেছেন (৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭), “পুজো এসে গেল। মানে মা দুর্গা আসছেন।
চারিদিকে পুজো পুজো গন্ধ। মুশকিল হল একটাই, স্কুলের পরীক্ষায়ও এই দুর্গা পুজো নিয়ে লিখতে হতে পারে। হয় অনুচ্ছেদ, নয় চিঠি। এইখানেই তো সমস্যা। কখনও দুর্গা নিয়ে আবার কখনও বা দূ্র্বা নিয়ে। উ-কার আর ঊ-কার, এই দু’জন কোথায় যে কে কখন বসে, মাঝে মাঝেই তা গোলমাল হয়ে যায়। শুধু কী তাই?
দুর্গা নিয়ে সমস্যা বেশি তার কারণ, ‘দূর্গা’, এই ভুল বানানটা ছোটরা পথে ঘাটে বিজ্ঞাপনে, দোকানের সাইন বোর্ডে প্রায়ই দেখে। এই ভুল আটকাতে বা মনে রাখার সুবিধের জন্য, ছোটদের বলা যেতে পারে দুর্গা হলেন দেবী, যাঁকে মা হিসেবে অনেকে উপাসনা করে, আর মা তো আমাদের স্নেহ করেন, ভালোবাসেন তাই ‘দু’ উচ্চারণ কোমল ভাবেই করা হবে। আর লেখার সময়ও তাই ‘ দ্+উ=দু’ লেখা হবে।
আবার, দূর্বা, ঘাসের একটা অংশ। তাকে মাটি থেকে টেনে তুলতে হয়, জোর লাগে। তাই দ্+ ঊ= দূ হবে।( বাচ্চাকে শেখাতে এই ভাবে ছোট ছোট গল্প বললে ওদেরও মনে রাখাটা সহজ হয়)
মনে রাখার জন্য একই ভাবে ছোটদের বলা যেতে পারে, দুষ্টু, দুরন্ত, দুরবস্থা , দুর্গতি, দুর্গম, দুর্বার ইত্যাদির ক্ষেত্রে ‘দু’-এর উচ্চারণ আস্তে হয়।
আবার যখন দ্+ঊ= দূ উচ্চারণ হবে, তখন জোর পড়বে ‘দূ’ তে। দূর বা দূরত্বের যে ‘দূ’ সেই ‘দূ’ একটু জোর দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে। হ্রস্ব-উ এবং দীর্ঘ-ঊ-এর এমন দু’রকমের উচ্চারণ যদি ছোটরা রিডিং পড়ার সময় অভ্যাস করে, তাহলে এই ধরনের বানান ভুল কমে যেতে বাধ্য।
***

