অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১১ মে: বিকাশপিডিয়া লিখেছে ‘বাংলা অ্যাকাডেমি’। উইকিপিডিয়া লিখেছে ‘বাংলা আকাদেমি’। দিনভর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বানান। মুখ্যমন্ত্রীর পুরস্কারপ্রাপ্তির পর ঝড়ের মত শব্দটা দাপিয়ে বেড়িয়েছে প্রচারমাধ্যমে। কিন্তু অ্যাকাডেমী, একাডেমী, আকাডেমী, অকাডেমী, অ্যাকাডেমি, অকাদেমী, অ্যাকাদেমী, একাদেমী, আকাদেমী—কোনটা হওয়া উচিত?
আনন্দবাজার পত্রিকা, অনলাইন আনন্দবাজার, এবিপি আনন্দ, আজকাল, সংবাদ প্রতিদিন, দৈনিক স্টেটসম্যান, গণশক্তি— এরা লিখছে আকাদেমী। বর্তমান অ্যাকাডেমি। জি ২৪-এ আকাদেমী (তবে অ্যাকাদেমি-ও পেয়েছি)। অনেকেই নিজের মত বানান ব্যাবহার করেছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন অ্যাসিস্টেন্ট এডিটর রথীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,“ওরা বাংলায় যা লেখে সেটাই লেখা উচিত।” আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেনের কথায়, “একটা ছড়া মনে রাখিস। আমরা যখন ডেস্কে কাজ করতাম তখন এই ছড়াটা মুখস্থ রাখতাম – সাহিত্য অকাদেমি, বাংলা আকাদেমি, আর সব অ্যাকাডেমি। সুতরাং বাংলা আকাদেমি। এটা আনন্দবাজারীয় বানান নয়, বাংলা আকাদেমির নাম। ওদের প্রকাশিত বইয়েই আছে।”
এই প্রশ্নের উত্তরে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতিবেদককে জানান, “অকাদেমি বানানটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় গ্রহণ করেছিলেন। আমরা তাই এটা ব্যবহার করি। বাংলা আকাদেমি ‘আ’ ব্যবহার করে। বাংলাদেশ একাডেমি লেখে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাজ হলে সমতার জন্যে আকাদেমি লেখা ভালো।”
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পশ্চিমবঙ্গে
প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভাষার সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে ফ্রান্সের আকাদেমি
ফ্রঁসেজ-এর আদলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি অঙ্গ হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এটি একটি স্বশাসিত সংস্থার মর্যাদা পায়।
***

