বাংলা বারুদের স্তুপে পরিণত! মু্খ্যমন্ত্রী রাজ্যকে কি শ্মশান বানাবেন? দত্তপুকুরের নীলগঞ্জে বিস্ফোরণ নিয়ে তোপ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২৭ আগস্ট: দত্তপুকুরের নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় মু্খ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, বাংলাকে বারুদের স্তুপে পরিণত করেছেন মু্খ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যকে কি শ্মশান বানাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’কে চিঠি দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

দত্তপুকুরের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কাকদ্বীপে সাংবাদিকদের সুকান্ত মজুমদার বলেন, “গোটা বাংলাকে বারুদের স্তূপে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দশজনের জীবন চলে যাওয়ার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার এবং তার দল।” কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “এই অপদার্থগুলো যতদিন বাংলায় থাকবে বাংলার মানুষ মারা যাবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত কয়েকদিনে আগে মিজোরামে বাংলার বেশকিছু পরিযায়ী শ্রমিক মারা গেছেন। আবার তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা। সুকান্ত বলেন, “কতজন মারা গেল হিসেব করুন, মিজোরামে মারা গেছে কুড়িজন। এখন ১০ জনের উপর মারা গেল। মুখ্যমন্ত্রী কি চাইছেন? গোটা রাজ্যটাকে কি শ্মশান বানাবেন? শ্মশান তৈরি করার পরে কি তার শান্তি হবে? এই দশজনের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।’ ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে, আজই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’কে চিঠি দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

বিজেপি নেতা দাবি করেন, সবটাই ওখানে বেআইনি চলছে। খোঁজ নিন ওখানে, কোনো না কোনো তৃণমূল নেতা তোলা তোলেন। হপ্তা পাওয়ার কারণেই পুলিশও সেখানে কিছু করে না। বোমার স্তূপের ওপর বাংলা দাঁড়িয়ে আছে।”

প্রসঙ্গত, আজ সকালে কেঁপে উঠেছিল দত্তপুকুরের নীল্গঞ্জের মোচপোল। বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের কারণে এই প্রবল আওয়াজ। ওই সময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দেহাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। যে বাড়িতে বাজি তৈরি হতো সেই বাড়ি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে ছাদ, বাড়িটির কংক্রিটের পিলার। ধ্বংসাবশেষের নিচে অনেকেই আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে। কমপক্ষে দশজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মচপোলের বাসিন্দা শামসুল আলি বেআইনী বাজির কারবার চালাতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে তৃণমূলের যোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রারাজনীতি সূত্রে দিনের পর দিন বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বারবার বাজি কারখানায় বিরোধিতা করে প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা গা করেনি। পাত্তা দেননি তৃণমূলের নেতারাও। প্রশাসন ও তৃণমূলের সহায়তায় রমরমিয়ে চলেছে বেআইনি বাজির কারবার।

এগরায় বেআইনি বাজি কারখানা বিস্ফোরণের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন প্রশাসনের চোখ খুলে গেছে। কিন্তু দত্তপুকুরের ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন এ কেমন চোখ খোলা? পুলিশের নাকের ডগায় এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাতেই রমরমে চলছে বাজির কারখানা।


ছবি: ঘটনাস্থলে বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র।

এদিন সকালেই ঘটনাস্থলে যান বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তিনি বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। ফাল্গুনী পাত্র জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণের বিস্তারিত রিপোর্ট তিনি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কাছে জমা দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *