আমাদের ভারত, ১ আগস্ট: রাজ্যে
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদ ভবন চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখাল বঙ্গ বিজেপির সাংসদরা। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, লকেট চট্টোপাধ্যায়, দেবশ্রী চৌধুরী, খগেন মুর্মু সহ অনেকে।
এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার পর থেকেই একের পর এক জায়গা থেকে কোটি কোটি টাকা, সোনা, রূপার গয়না, সোনার বাট, একাধিক সম্পত্তির দলিল, নথি উদ্ধার হয়ে চলছে। আলোচনায় উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আপাতত দল ও সরকারের সমস্ত পদ থেকে সরিয়েছে তৃণমূল।
কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, একা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এত বড় দুর্নীতি করতে পারেন না। এই দুর্নীতির দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেও বর্তায়। সেই দাবিতে আজ বিক্ষোভ দেখানোর সময় সুকান্ত মজুমদার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ধরা পড়েছে। আমরা মনে করি একা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এত বড় দুর্নীতি করতে পারেন না। তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটা দল সে দলে টিকিট কে পাবে, কে মন্ত্রী হবেন সমস্ত কিছু একজন (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ঠিক করেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যখন এত বড় ঘটনা ঘটে গেছে, সেই ব্যপারে মুখ্যমন্ত্রী কিছু জানেন না তা হতে পারে না।” তার দাবি, “গোটা রাজ্য জুড়ে কাটমানির খাদ্য শৃঙ্খল আছে। তাই এই কাটমানির খাদ্য শৃঙ্খলে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।”

এদিনে একাধিক পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সাংসদরা। সেখানে লেখা ছিল, “এত বড় দুর্নীতির পরেও সততার প্রতীক কেন নিশ্চুপ?” “লজ্জায় মুখ ঢেকে যায়”, “কুশিক্ষা মন্ত্রী জেলে যায়”। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে লেখা ছিল “বাংলার লজ্জা মমতা”।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পর থেকেই বিজেপি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে। এবার বাংলার সাংসদরা এসএসসি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিল্লিতে সংসদের বাইরেও বিক্ষোভ দেখালেন।

