Sukanta, BJP, বেলডাঙা জাতীয় সড়ক অবরোধ ও সাংবাদিকদের মারধর, “পুলিশ দুধেল গাইদের দেখেই কিছু করেনি,” কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ১৬ জানুয়ারি: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিগৃহীত হন সংবাদ মাধ্যম। এক মহিলা সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের তীর্যক মন্তব্য, পুলিশ দুধেল গাইদের দেখেই কিছু করেনি।

তবে এই ঘটনায় তিনি তৃণমূলের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তৃণমূল বার বার বলে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈমাত্রিক আচরণ করা হচ্ছে। কোনো কোনো রাজ্যে ঝগড়া- ঝামেলা ও পেটানো হয়েছে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে তো মৃত্যু হয়ে গেল। এটা হয়েছে। কেন হলো এটা? এখানে তো হেমন্ত সোরেনের সরকার।

জানাগেছে, আনারুল শেখ নামে এই ব্যাক্তি ফেরি করতে গিয়েছিল ঝাড়খন্ডে। সেখানে তার মৃত্যু হয়। সেখানে তাকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অস্বাভাবিক অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। তারপর থেকেই বেলডাঙা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুকান্তবাবু। তিনি আরো বলেন, এমনকি প্যাসেঞ্জার ট্রেন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ট্রেনে পাথর মারা হয়েছে। ট্রেনটিকে জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু অবরোধ চললেও পুলিশ দুধেল গাইদের দেখে কিছু করেনি বলে কটাক্ষের সুরে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

তাঁর কথায়, জাতীয় সড়কের উপর আজ যা হয়েছে সেটা কোনো আলাদা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে সিএএ- এর সময় এই এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ওয়াকফ আন্দোলনের সময় মালদা ও মুর্শিদাবাদে এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর দাবি, বারবার পশ্চিমবঙ্গকে অশান্ত করার এটা একটা চেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানিতে এটা চলছে এবং এই সমস্ত সাম্প্রদায়িক শক্তির মাধ্যমে চলছে। এর আগে ফারাক্কা এবং চাকুলিয়াতেও এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এরপরই তিনি দাবি করেন, যেখানে জনবিন্যাস একটু অন্যরকম অর্থাৎ যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, মাদ্রাসা বেশি, সেই সমস্ত জায়গাতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, যেখানে হিন্দু সংখ্যা কমে যাবে সেখানে সেকুলারিজম প্লুরারিজম থাকবে না। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাও সেখানে থাকবে না।

বেলডাঙায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক মহিলা সাংবাদিক এবং তার চিত্র সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বাংলার জন্য এটা লজ্জার দিন। কতগুলো মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে এবং এক মহিলা সাংবাদিককে শ্লীলতাহানি করলো, মারধর করা হলো। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। তৃণমূল কংগ্রেস মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের জন্য এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে। আপনার আমার বাড়ির মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে না এই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য।

তিনি বলেন, মহিলা সাংবাদিককে যেভাবে পুলিশের সামনে মারা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার এবং গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। পশ্চিমবঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। যে পরিস্থিতি এখন বাংলায় চলছে তাতে আপনার- আমার, বাংলার কারোর বাড়ির মেয়েরাই সুরক্ষিত নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে যাচ্ছেন।পুরোটাই ইচ্ছাকৃত করা হচ্ছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের শান্তি শৃঙ্খলাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে মানুষ ভয় পায়, ভোট দিতে যেতে ভয় পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *