দুয়ারে সরকারের অজানা কথা, জোটেনি বার্ধক্য ভাতা, অসুস্থ স্ত্রী- দুই সম্তান, পানাগড়ে ভিক্ষাবৃত্তি অসহায় বৃদ্ধ আব্দুল খালেকের

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ আগস্ট: জবকার্ড আছে। কাজ করতে অক্ষম। জোটেনি বার্ধ্যক্যভাতা। বাড়িতে শয্যাশায়ী স্ত্রী, দুই সন্তান। চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছে। অনটন গ্রাস করছে গোটা সংসারে। অভাবের সংসারে সামাল দিতে প্রায় ৪০ কিমি দূরে পানাগড়ে ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধের। প্রখর রোদে ছাতা মাথায় বেঁচে থাকার লড়াইয়ের একমাত্র সম্বল গলসির আব্দুল খালেকের। 

সেখ আব্দুল খালেক। বছর ৭৫ বৃদ্ধের বাড়ি গলসি-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির খানো পঞ্চায়েতের খানো রেলগেট এলাকায়। বাড়িতে তার স্ত্রী সাজাহারা বিবি। ব্রেন স্টোক হয়ে শয্যাশায়ী। দুই সন্তান মারণ রোগে আক্রান্ত। বিঘা কয়েক জমি কোনও ভাবে চাষ করেন তিনি। কিন্তু বার্ধ্যক্যের ভারে জর্জরিত। অনটনে গ্রাস করেছে সংসার। তার ওপর অসুস্থ স্ত্রী সন্তানদের চিকিৎসা করাতে অপারগ। অনটনে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পানাগড়ে ভিক্ষাবৃত্তি এখন একমাত্র সম্বল বৃদ্ধ আব্দুল খালেকের। প্রখর রোদে পানাগড় রেল গেটে প্রায়দিনই ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করেন। চোখ মুখে বয়সের বলিরেখা ফুটে উঠেছে। ভিক্ষা করার কারণ জানতেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। বুকের ভেতর থেকে অসহায় অনটনের যন্ত্রনা ফুটে উঠল। জড়ানো গলায় তিনি জানান,”রেশন পাই। জবকার্ড আছে। কিন্তু বার্ধ্যক্যের ভারে সেভাবে কাজ করতে পারি না। বাড়িতে স্ত্রী সন্তনরা অসুস্থ। শয্যাশায়ী স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে অক্ষম হয়ে পড়েছি। তার ওপর সংসারের খরচ। সামান্য জমি আছে। কোনও ভাবে চাষ করি। তাই অভাব অনটনে কোনও ভাবে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করে বেড়াই।”

সরকারি সহায্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” বার্ধ্যক্য ভাতার জন্য বহুবার পঞ্চায়েতে গেছি। কোনও সাহায্য জোটেনি। তাই হতাশায় বাধ্য হয়ে হাত পেতে ভিক্ষা করাই সম্বল।” প্রশ্ন, দুয়ারে সরকারের সহায়তা প্রদানে এবারে দ্বীতিয়বার। তারপরও কেন জুটল না বৃদ্ধ আব্দুল খালেকের বার্ধ্যক্য ভাতা।

গলসি-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাসুদেব চৌধুরী জানান,” বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমাদের কাছে আবেদন করলে অবশ্যই বার্ধ্যক্যভাতার ব্যাবস্থা করা হবে।” 

    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *