২১শে জুলাইয়ের আগে দক্ষিন দিনাজপুরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আক্রমণ জেলা সভাপতি’কে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ জুন: ২১শে জুলাইয়ের আগে তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলে। তপনে একই দিনে দুটি সভা হল তৃণমূলের। নাম না করে একটি সভা থেকে আক্রমণ জেলা তৃণমূল সভাপতিকে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে বালুরঘাটে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ভুয়ো সভার আখ্যা জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাকের। পুলিশে অভিযোগ দায়ের রাজ্য তৃণমূলের নেতা হিসাবে পরিচয় দেওয়া স্বপন ব্যানার্জির বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২১ জুলায়ের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সভা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার সেই হিসাবেই তপন ব্লকে দুইটি সভা করে তৃণমূল। যার মধ্যে একটি সভা বৈধ হলেও আরেকটিকে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তপনের রবীন্দ্র ভবনে তৃণমুলের তরফ থেকে যে সভা ডাকা হয়েছিল সেটি বৈধ। কিন্তু তার থেকে সামান্য দূরে আরও একটি সভা হয়েছিল সেটি অবৈধ। এদিন বালুরঘাটে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে দ্বিতীয় ওই সভাকে ভুয়ো বলে দাবী করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। আর যাকে ঘিরেই কার্যত প্রকাশ্যে এসেছে তৃনমুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। শুধু তাই নয় ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকা স্বপন ব্যানার্জি, যিনি নিজেকে শুধু রাজ্যের নেতা হিসাবেই নন অভিষেক ব্যানার্জি ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির অতি ঘনিষ্ঠ হিসাবেও পরিচিত করিয়েছেন নিজেকে। আর যে সভা থেকেই নাম না করে দক্ষিন দিনাজপুরের জেলা সভাপতি কে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয় গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রের ভুয়সী প্রশংসা করে আগামীতে তিনিই এ জেলার অন্যতম নেতা হচ্ছেন বলেও জোর গলায় চিৎকার করেছেন তিনি।

আর এই ভিডিও সামনে আসতেই ২১ শে জুলাইয়ের আগে রীতিমতো প্রকাশ্যে এসেছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। কলকাতার ওই ব্যক্তি জেলা নেতৃত্বর অনুমতি ছাড়া কিভাবে দিনের পর দিন জেলায় ছিলেন? শুধু তাই নয়, তৃণমুলের প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ও সরকারী অনুষ্ঠানেও একাধিকবার দেখা গেছে ওই ব্যক্তিকে। যে মঞ্চে হাজির থাকতে দেখা গিয়েছে খোদ জেলা সভাপতিকেও। জেলা নেতৃত্বর অনুমতি ছাড়াই কিভাবে ২১ শে জুলায়ের প্রচার সভাতে ওইদিন তপনে হাজির হলেন ওই ব্যক্তি, যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন? দীর্ঘদিন ধরে জেলায় তার বিচরন থাকলেও জেলা সভাপতিই বা কেন এতদিন চুপ করে ছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে খোদ দলের অন্দরেই।

যদিও জেলা সভাপতি উজ্জ্বল বসাকের বক্তব্য, তৃণমূলের নামে ভুয়ো সভা করে বক্তব্য রেখেছিলেন কলকাতার বাসিন্দা স্বপন ব্যানার্জ্জী । রাজ্যের নির্দেশেই এদিন তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে । পুলিশ তাঁর খোঁজে তদন্তে নেমেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *