আমাদের ভারত, বনগাঁ, ২১ আগস্ট: পুরসভার উপনির্বাচনে পুলিশের সামনে বিজেপি বিধায়ক সহ তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীদের মারধর করে ভোট লুট করল তৃণমূল নেতা নান্তু ঘোষ ও তাঁর দলবল। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করল বিজেপি। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে উপনির্বাচন। সকাল থেকে ছয়টি বুথ দখল করে ভোট লুট করছিল তৃণমূল নেতা নান্তু ঘোষ ও তাঁর দলবল। বাধা দিতে গেলে মহিলাদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
কে এই নান্তু ঘোষ?
বনগাঁর নান্তু ঘোষের এক সময় সমাজ বিরোধী ও চোরা চালানকারী নামে হাঁকডাক ছিল। এরপর বনগাঁর এক কংগ্রেজের কাউন্সিলর তাপস মিত্রকে পুরীতে খুন করার অভিযোগে কয়েক বছর জেল থাকে। জেল থেকে বেরিয়ে ফের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ শুরু করে। ফের হেরোইন পাচারের অভিযোগে পুলিশ নান্তুকে গ্রেফতার করে। সেই সময়েও কয়েক বছর জেলে থাকতে হয় নান্তুকে। এরপর জেল থেকে বেরিয়ে তৃণমূলে নাম লেখায়। আলোরানির হাত ধরে দলের নেতা হয়ে ওঠে নান্তু ঘোষ।

ছবি: হলুদ জামা গায়ে নান্তু ঘোষ।
এদিন সকাল থেকে বনগাঁর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে তৃণমূল নেতা নান্তু ঘোষ ও তাঁর দলবল। বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার অভিযোগ, সকাল থেকে ছয় টি বুধ দখল করে বিজেপির বুথ এজেন্টদের বন্দুক দেখিয়ে বের করে দেয় বুথ থেকে। এরপর নান্তু ঘোষ ও তাঁর দলবল বুথে ঢুকে ভোট লুট করে। খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌছায় বনগাঁর দুই বিধায়ক। বাধা দিতে গেলে বনগাঁর দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও তাঁর দেহ রক্ষীকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে বনগাঁর বাটারমোড় অবরোধ করে।
তাঁদের দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনীদের দিয়ে ভোট পুনরায় করতে হবে। অন্য দিকে তৃণমূলের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে সিপিএম–ও। তাঁদের দাবি পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুট করছে তৃণমূল। বিজেপি নেতা শোভন বৈদ্য বলেন, তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই। রাজ্যের নেতা মন্ত্রীরা যে ভাবে একেরপর এক দুর্নীতির দায়ে জেলে ঢুকছে তাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট পাবে না। চুরির দায় কিছুটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া তৃণমূল। আর সেই কারণেই মানুষের গণতন্ত্রকে হত্যা করছে সমাজ বিরোধীরা। যদিও তৃণমূলের কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

