আমাদের ভারত, ৬ জুন: হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে বিজেপির মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নূপুর শর্মাকে। সমালোচিতও যেমন হচ্ছেন, তেমন অনেকে সমর্থনও করছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রীতিমত আলোচিত নাম নূপুর শর্মা।
অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বিতর্কিত নূপুর। সেই সঙ্গে আইনের ডিগ্রিও রয়েছে তাঁর। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়েই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০১৫ সালে নয়া দিল্লি নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে কেজরিওয়ালের কাছে হেরে যান তিনি। এর পরে ২০১৭ সালে দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেন তিনি। ভালো কাজের ফল হিসাবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে জাতীয় মুখপাত্র হিসাবে নিযুক্ত করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। যুব বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসাবেও কাজ করেছেন নূপুর।
টুইটারে রীতিমত অভ্যস্ত নূপুর। তাঁর টুইট যাঁরা অনুসরণ করেন, তাঁদের মধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর, সাংসদ-প্রাক্তন অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি, শ্যামাপ্রসাদ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা ডঃ অনির্বান গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। নূপুর নিজে অনুসরণ করেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, অরুণ জেটলি এবং বিজেপি-কে। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ টুইট করেই তিনি আর্জি জানান, তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। বাড়ির ঠিকানা যেন প্রকাশ্যে না আনা হয়। ঘন্টাখানেকের মধ্যে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা করে ইংরেজি ও হিন্দিতে দুঃখ প্রকাশ করেন। তার পর থেকে সোমবার বেলা সওয়া দুটো পর্যন্ত আর টুইটারে আসেননি।
ফেসবুকেও স্বচ্ছন্দ নূপুর। এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে তাঁর নামে ছ’টি প্রোফাইল। প্রতিটিতে লেখা ‘পপুলার নাউ’। রাজনীতির জগতে বেশ পরিচিত মুখ নূপুর। ২০১৫ সালের দিল্লি নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে নূপুরকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। সেই নির্বাচনে হেরে যান নূপূর। তারপর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২০ সাল থেকে তিনি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেছেন। রবিবার তাঁকে পদ থেকে বহিষ্কার করে বিজেপি।
নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে মুখ খুলেছেন নূপুর। জ্ঞানবাপী মসজিদে শিবলিঙ্গ খুঁজে পাওয়ার পরেই দেশ জুড়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নূপুরের মতে, শিবলিঙ্গকে ফোয়ারা বলে অসম্মান করা হয়েছে। সেই কথার প্রেক্ষিতেই তিনি হজরত মহম্মদ সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। সেই কারণে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমার কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আমার কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি।”
তাতে সমস্যা কমেনি। তাঁর কথার গুরুতর প্রভাব পড়েছে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির উপরে। সেই দেশে ভারতীয় রাষ্টদূতদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য যে ভারত সরকারের বক্তব্য নয়, সেই কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা। তবে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ইসলামিক দেশের খোলা বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ভারতীয় পণ্য। সামগ্রিক ভাবে ভারতীয় পণ্য বয়কট করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে এই দেশগুলির তরফে।

