স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৭ ডিসেম্বর: মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের কর্নজোড়া সরকারি অডিটোরিয়ামে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ মালদা থেকে হেলিকপ্টারে করে অডিটোরিয়াম সংলগ্ন অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের দুই মন্ত্রী গোলাম রাব্বানী ও বিপ্লব মিত্র। নাচ, গানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান জেলার লোকশিল্পীরা। দুপুর দুটো থেকে শুরু হয় সভার কাজ। সভার শুরুতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দুই জেলার জন্য একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৭০ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার ১৫ টি প্রকল্প ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ১৩৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার ২৩ টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ নেন প্রশাসনিক কর্তাদের কাছ থেকে। লক্ষ্মীর ভান্ডারে বকেয়া আবেদন দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধায়কদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সক্রিয় হোন। মানুষের জন্য কাজ করুন। অনেক মানুষ সরকারি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন না, তাদের সাহায্য করুন। ” স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু ব্যাংক সমস্যা তৈরী করছে। এক্ষেত্রে কো অপারেটিভ ব্যাংকগুলির সাথে কথা বলে দ্রুত কার্ড বিলির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ গুলিতে এবিষয়ে শিবির করার নির্দেশ দেন।” এদিন রায়গঞ্জের পরিতক্ত্য স্পিনিং মিলটিকে টেক্সটাইল পার্ক ও কালিয়াগঞ্জে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরীর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।”
এদিন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রায়গঞ্জ-বারসই রাস্তার কাজ শেষ করার আবেদন জানান। বিধায়কের এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। এদিনের বৈঠকে ইসলামপুরের বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী পৃথক জেলার দাবি জানালে তা তৎক্ষনাৎ খারিজ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বৈঠক শেষ করে হেলিকপ্টারে করে মালদার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। বুধবার মালদা ও মুর্শিদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

