স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৭ ডিসেম্বর: বিডিও’রা হলেন এখন ‘বেচারা দিদির অফিসার’। তৃণমূলের ছোট-খাটো-মেজো নেতারা বিডিও’দের ধমক দিচ্ছে। ডবলুবিসিএস পাশ করা ব্যক্তিরা যদি এমন হয় তাহলে কে সম্মান দেবে তাদের? বিডিওকে কেউ বিডিওই মনে করছে না সেই কারণে। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের চালুনিয়া এলাকায় কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
তিনি রায়গঞ্জের বোমাবাজির ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ওটা কোনো দুষ্কৃতি নয়, ওটা তৃণমূলের কাজ। তৃণমূল বোমা মেরেছে। পয়সা চেয়েছিল দেয়নি তাই বোমা মারা হয়েছে। তৃণমূলের কাজই হল বোমা মেরে টাকা রোজগার করা।
সোনাপুরে তৃণমূল কর্মীর মারধরের ঘটনায় তিনি বলেন, ওসব জয় হিন্দ বাহিনী -টাহিনী তৈরী করা হয়েছে গোষ্ঠী বাজি করার জন্য। ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে গন্ডগোল। মাল ভাগাভাগি নিয়ে টানাটানি মারামারি চলছে। এরপর তৃণমূল দলটাই থাকবে না। মায়েদের বলব, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কথামত সন্তানদের তৃণমূলে পাঠালে প্রাণটাই হয়তো থাকবে না। বিজেপিতে পাঠান তাহলে ভদ্রভাবে পার্টি ও রাজনীতি দুটোই করতে পারবে।
বিজেপি কর্মী মারধরের ঘটনায় তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়েছি। আগামীতে পুলিশের কাছে যাব। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আমরাই ব্যবস্থা নেব।
নিয়োগ বিতর্কের তালিকায় বিজেপি ঘনিষ্ঠদের নাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যার নাম থাকে থাকুক। অন্যায় ভাবে যারা চাকরি পেয়েছে তাদের সকলের চাকরি যাবে। কিন্তু প্রশ্নটা হল চাকরিটা দিল কে? যারা অন্যায় ভাবে চাকরি পেয়েছে তাদের তো চাকরি যাচ্ছে। কিন্তু যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছে সেই মাথাগুলোকে সবার আগে টানা উচিত।
পানিহাটির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কোয়ার ফিট হিসাবে টাকা দেয়নি। এখানে যেমন ফেজকা হিসাব, কলকাতা ও তার আশপাশে স্কোয়ারফিটের হিসেব চলে।
তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ বির্তকে নাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব তো তৃণমূলের নেতাদের ছেলে, মেয়ে, বউ। মনে হচ্ছে ওরাই পড়াশোনা করেছে গোটা ভারতবর্ষে। আর কেউ করে না। তৃণমূলের সবার চাকরি হয়েছে। বাড়ির পোষা কুকুর, বেড়াল গুলোর চাকরি হয়নি, এই আমাদের সৌভাগ্য।
প্রাইমারি শিক্ষকের ইন্টারভিউ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলের পুরনো যা রেকর্ড, তাতে স্পষ্ট যে তৃণমূল সরকার স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করতে পারেনি ও পারবেও না।
তিন থানার আইসির বাড়িতে ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ তল্লাশি চালানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যন্ত সন্দেহজনক ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গের সব থানার আইসি’ই দুর্নীতির সাথে জড়িত। এমন কোনো আইসি নেই যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। তাহলে বেছে বেছে এই তিনজন কেন? হয়তো তৃণমূলের সব কথা শুনছিল না, তাই শায়েস্তা করা হয়েছে।
অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বলব ‘দুগ্গা-দুগ্গা’। যাত্রা শুভ হোক। বাকিটা উনি বুঝবেন।
তৃণমূল দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচুর লাইন দিয়ে আছে। আমরা ঝেড়ে-বেছে, গঙ্গাজল -গোবরজল খাইয়ে তারপর দলে নেব।
প্রসঙ্গত, আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সংগঠন মজবুত করতে উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি। এরই অঙ্গ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মীসভা এবং বুথ ভিত্তিক সন্মেলন করছে গেরুয়া শিবির। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার ব্লকের চালুনিয়া এলাকায় কর্মী সম্মেলন করল বিজেপি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। চালুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে প্রচুর কর্মী সমর্থক অংশ নেন।

