আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৩১ মার্চ: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এস এন ব্যানার্জি রোড। ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের শ্লোগান ও পাল্টা শ্লোগানকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ, চলে গুলি। জখম হয় এক রাজনৈতিক কর্মী। পরে পুলিশ রাস্তা থেকে একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, যে বন্দুক থেকে গুলি চলেছে, সেটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের উপর।
বুধবার সকাল ১০ টা থেকে ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছিল। উত্তর দমদম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে, রাজ চক্রবর্তী, মঞ্জু বসু, পার্থ ভৌমিক, বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভ্রাংশু রায়, জগদ্দল কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্য, অর্চনা মজুমদার সহ যুযুধান বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষের প্রার্থীরা এদিন হাজার হাজার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রার্থীর সঙ্গে মাত্র দুই জন প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত থাকতে পারবে বলে আগেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেই মত প্রার্থীর সঙ্গে দুই জন করেই প্রশাসনিক ভবনের মধ্যে প্রবেশ করছিল। তবে বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে হাজার হাজার সমর্থক এসে ভিড় করেছিল প্রশাসনিক ভবনের বাইরে।

দুপুরের পর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভ্রাংশু রায় এবং ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী। মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক, রাজ চক্রবর্তী। তখন প্রশাসনিক ভবনের বাইরে গেটের সামনে তিলধারনের জায়গা ছিল না। উভয় পক্ষের রাজনৈতিক দলের কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান ও পাল্টা শ্লোগান দিতে শুরু করে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা খেলা হবে শ্লোগান দিতে থাকে, অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকরা জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিতে শুরু করে।

দুই দলের কর্মীরা পাশাপাশি চলে আসলে তাদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা প্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও প্রশাসনিক ভবনের বাইরে হাজার হাজার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না। ফলে শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সংঘর্ষ। সেই সময় হঠাৎই একটি পাইপ গান থেকে গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হন এক রাজনৈতিক কর্মী। তার পায়ে গুলি লাগলে, তাকে ভর্তি করা হয় ব্যারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে।

এরপরই আরো বেশি হুড়োহুড়ি পড়ে যায় প্রশাসনিক ভবন চত্বরে। পুলিশ রাস্তা থেকে একটি অবৈধ বন্দুক উদ্ধার করে এবং এক অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের উপর ব্যপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গোটা ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে প্রশাসনিক ভবন চত্বর। বিকেলে ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনের বাইরের পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অশান্তি ও গন্ডগোলের জেরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা প্রার্থীদের প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে নিরাপত্তার কারণে আটকে দেওয়া হয় বিকেল পর্যন্ত। বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে প্রশাসনিক ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে যান বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

