শিক্ষিকা মেয়ে বিষ খেয়ে এনআরএস হাসপাতলে ভর্তি, সঙ্কটে জ্যোৎস্না টুডুর বৃদ্ধা বিধবা মা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৬ আগস্ট: বিকাশ ভবনের সামনে বিষপান করে সঙ্কটজনক অবস্থায় এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি জ্যোৎস্না টুডুর ধুপগুড়িতে বদলি নিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন তার বৃদ্ধা বিধবা মা বারি টুডু। মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনে যে পাঁচ শিক্ষিকা বিষ পান করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম শালবনি ব্লকের চাঁদাবিলা গ্রামের জ্যোৎস্না টুডু এনআরএস হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি।

শালবনির একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা জোৎস্নাকে ছয়শত পচাত্তর কিলোমিটার দূরে ধুপগুড়িতে বদলি করা হয়েছে। সেখানে গেলে বৃদ্ধা মাকে কে দেখবে, দশ হাজার টাকার চাকরিতে সেখানে কিভাবে চলবে? এই প্রশ্নে অন্যান্য বদলি শিক্ষিকাদের সঙ্গে আন্দোলনে নেমে মঙ্গলবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পুলিশের বাধা পেয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তারপরেই এনআরএস হাসপাতালের সিসি ইউনিটে তিনি ভর্তি রয়েছেন। আত্মহত্যার চেষ্টা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। তাই হাসপাতাল থেকে বেঁচে ফিরলও তাদের যেতে হবে জেলে। মইদুল ইসলামের শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ইতিমধ্যে তাদের বিজেপি ক্যাডার বলে তোপ দেগে দিয়েছেন। যদিও জ্যোৎস্নার দুই ভাই সমর ও বাদল টুডু তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, জ্যোৎস্নার দুই ভাই তৃণমূলের হয়ে কাজ করলেও ঝাড়গ্রামের একটি প্রশাসনিক সভায় শিক্ষক সংগঠনের দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জ্যোৎস্না। তার এই ধুপগুড়িতে বদলির পরিপক্ষিতে অনেককেই সেই বিক্ষোভের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তবে জ্যোৎস্নার সঙ্গে এক সঙ্গে থাকা বৃদ্ধা মা বারি টুডু সেসব কিছু বেঝেন না। মেয়ে হাসপাতাল থেকে বেঁচে ফিরবে কি না কিংবা ফিরলেও বাড়ি ফিরবে নাকি জেলে যেতে হবে সেই নিয়েই সঙ্কটে পড়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *