নিউটাউনের আইনজীবী খুনে স্ত্রী অনিন্দিতাকে যাবজ্জীবন সাজা বারাসত আদালতের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর: মৃত্যুর প্রায় বছর দুয়েক পরে সুবিচার পেলেন নিউটাউনের আইনজীবী রজত দে। ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে নিউটাউনে আইনজীবী রজত দে খুনে স্ত্রী অনিন্দিতাকে দোষী সাব্যস্ত করার পর বুধবার বারাসত আদালতে যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল বারাসত আদালত। রায় শুনে আদালতেই ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলেন অনিন্দিতা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বরে নিউটাউনের ডিবি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হয় আইনজীবী রজত দে’র। গলায় মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়ে খুন করা হলেও প্রত্যক্ষ তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি পুলি়শ। স্ত্রী অনিন্দিতা পুলিশকে জানান, খাট থেকে পড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করে তিনি মারা গিয়েছেন। সরাসরি কোনওদিনই তিনি খুনের কথা স্বীকার করতে চাননি। তবে স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার জন্যই ওই আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা।

কিন্তু সরকারি আইনজীবীর বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এই মামলায় ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ, যেমন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। মামলার শুনানিতে আদালতে পুলিশ দাবি করে, কীভাবে খুন করলে তথ্য-প্রমাণ থাকে না, তা গুগলে সার্চ করেছিলেন অনিন্দিতা। তাছাড়াও তার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাস দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তারপরেই ডিজিটাল তদন্তে একাধিক তথ্য-প্রমাণ হাতে আসে পুলিশের। ওই সমস্ত তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেই খুন (৩০২) ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের (২০১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয় অনিন্দিতা পাল। এদিন বিচারক জানান, অনিন্দিতার বয়স কম তাছাড়া তার তিন বছরের বাচ্চা আছে, তাই ফাঁসি দেওয়া হল না। তাকে সংশোধনের আরেকটা সুযোগ দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *