বাউড়িয়ায় প্রেমিককে বহুতল থেকে ঠেলে ফেলে খুনের অভিযোগ বার ডান্সারের বিরুদ্ধে

আমাদের ভারত, হাওড়া, ২০ জানুয়ারি: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্রেমিককে বহুতলের বারান্দা থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক বার ডান্সারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে বাউড়িয়া থানার বাড়িখালিতে। মৃতের নাম শশীকান্ত মালিক (৩২)। ঘটনায় মৃতের স্ত্রী মামণি মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে বাউড়িয়া থানার পুলিশ বার ডান্সার কেয়া সরকার ওরফে মিস টিনা নামে ওই যুবতীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জানাগেছে, আলমপুরের একটি পানশালায় গান গাওয়ার সুবাদে বিবাহিত শশীকান্ত মালিক ওই পানশালার বার ডান্সার বিবাহিত কেয়া সরকার ওরফে টিনার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। দু’জনের এই সম্পর্কের কথা দুটি পরিবার জানতে পারার পরেই অশান্তি শুরু হয়। এরপরেই টিনা তার ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে শুরু করে। এপ্রিল মাস থেকে শশীকান্ত টিনাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। জানাগেছে, মাস খানেক আগে শশীকান্ত বাউড়িয়ার বুড়িখালিতে একটি বহুতলের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে টিনাকে এনে রাখে। সূত্রের খবর, বুধবার রাত ২ টো নাগাদ টিনা শশীকান্তর স্ত্রী মামণি মালিককে ফোনে জানায় শশীকান্ত মদ্যপ অবস্থায় চারতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। যদিও মামণি মালিকের অভিযোগ, টিনা তার স্বামীকে ঠেলে ফেলে খুন করেছে। তিনি জানান, বছর ১২ আগে তাদের বিয়ে হলেও সংসারে কোনো অশান্তি ছিল না। দুই সন্তানকে নিয়ে শান্তিতেই ছিলাম। যদিও বছর দুয়েক আগে টিনার সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক তৈরীর পরেই অশান্তি শুরু হয়। তিনি জানান, প্রথমে শশীকান্ত রাতে বাড়িতে থাকলেও গত এপ্রিল মাস থেকে রাতে বাড়িতে থাকতো না। মামণি মালিক জানান, বুধবার সকালে শশীকান্ত বাড়িতে আসলেও টিনার ফোন পেয়ে চলে যায়। পরে রাতে টিনা ফোনে স্বামীর মৃত্যু সংবাদ দেয়।

এদিকে টিনার অভিযোগ, শশীকান্তর সঙ্গে সম্পর্ক হলেও সে কখনোই জানতো না যে শশীকান্ত বিবাহিত। টিনার দাবি, মাস ৬ আগে শশীকান্ত বিবাহিত জানার পর থেকেই আমি তাকে এড়িয়ে চলতে থাকি। টিনা জানায়, বুধবার রাতে শশীকান্ত মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে অশান্তি শুরু করে। পরে অশান্তি চলার মাঝেই বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *