সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ জুলাই:
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু করে শুক্রবার সারাদিন একটানা বর্ষণে গোটা বাঁকুড়া জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার নদ-নদী গুলি দুকুল ছাপিয়ে ফুঁসছে। এদিকে দূর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ালে পাত্রসায়র ও সোনামুখী ব্লক সহ’ পাশ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিম্নচাপ জনিত প্রবল বর্ষণে জেলার জঙ্গলমহল গোটা দক্ষিণ বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলবন্দি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে উত্তর বাঁকুড়ার মেজিয়া ও বড়জোড়া থানার দামোদর নদের মানার চরগুলিও জলমগ্ন হয়ে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলের তলায় চলে গেছে ফসলের মাঠ। এবার বর্ষা ভালো হওয়ায় জেলার কৃষকদের আউশ চাষ প্রায় শেষের মুখে। সেই ধানের অনেক গুছি জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। জলের তলায় ডুবে থাকা ধানের চারা পচে যাবার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। জেলায় প্রচুর মাটির বাড়ি ধ্বসে পড়েছে।
সিমলাপালের পাথরডোবা গ্রামে আব্দুল ওহাদ খান (৬০) নামে এক বৃদ্ধ দেয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শুক্রবার সকালেই। টানা বর্ষণের ফলে হাজার হাজার বিঘা ধান জমি জলের তলায় চলে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকার বর্ষাকালীন শাক সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা।
বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপালে শিলাবতী নদীর সেতুর তিন ফুট উপর দিয়ে জল বইছে। শালী নদীর উপর বেলিয়াতোড় থানার ভৈরবডাঙা সেতুটিও জলের তলায়। ফলে এই সড়ক পথ দুটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও বড়জোড়া থানার তেঁতুলপুয়া কজওয়ে, মেজিয়ার মাতাবেল জোড়ের সেতু, পাথরডাঙা কজওয়ে, তালডাংরার ইটাপাড়া সহ অন্তত ডজনখানেক কজওয়ের উপর দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় মেজিয়া, বড়জোড়া, ছাতনা, বাঁকুড়া ১ ও ২ নং ব্লক, সোনামুখি, সিমলাপাল এবং তালডাংরার বহুগ্রাম বিচ্ছিন্ন।
এছাড়াও দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, জয়পণ্ডা, শালী, কংসাবতী, শিলাবতী সহ প্রত্যেকটি নদীতে জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। দামোদর নদের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে এদিন বিকেল ৩ টে পর্যন্ত জল ছাড়ার পরিমাণ ছিল ৫৬,৬৭৫ কিউসেক। রাতের দিকে ডিভিসির পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজের জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে। সেই কারণে সোনামুখি ও পাত্রসায়র ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কংসাবতী জলাধার থেকে জল ছাড়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে ৯ নম্বর রাজ্য সড়কও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে। এদিকে ইঁদপুর ব্লকের নুনিয়াবাইদ এলাকায় বাঁকুড়া- খাতড়া ২ নম্বর রাজ্য সড়কের উপর গাছ পড়ে নতুন করে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক পথটিতেও কার্যত ভারী যান চলাচল বন্ধ। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জেলা প্রশাসনিক দপ্তরে না পৌঁছানোয় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সতর্ক বলে বিভাগীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩২ মিমি বলে জেলা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

