সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ ডিসেম্বর: প্রতিবেশী শিক্ষকের জমিতে জোর করে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও তার পুত্রকে হত্যার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করলো বাঁকুড়া পুলিশ। গত ৩ ডিসেম্বর বাঁকুড়া শহরের নূতনচটি এলাকায় প্রতিবেশীর আক্রমণে প্রাণ হারান প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক মথুরা মোহন দত্ত ও তার পুত্র শ্রীধর দত্ত।এছাড়াও আক্রান্ত হন মথুরাবাবুর স্ত্রী মল্লিকা দত্ত।তিনি এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

উল্লেখ্য, শহরের নূতনচটিতে দুই প্রতিবেশী মথুরা মোহন দত্ত, পিন্টু রুইদাসের বিবাদ শুরু হয় বাড়ি নির্মাণকে ঘিরে। আবাস যোজনায় বরাদ্দ বাড়িটিতে মথুরাবাবুর জমি দখল করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত ওই বাড়িটির অবৈধ নির্মাণ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। সেই নোটিশ পাওয়ার পরই পিন্টু সপরিবারে মথুরাবাবুর পুত্রকে মারধর করে। ছেলেকে মারধরের ঘটনা জানতে পেরে মথুরাবাবু ও তার স্ত্রী বেড়িয়ে এলে তারাও আক্রান্ত হন।

পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত পিন্টু রুইদাস, তার স্ত্রী নমিতা ও দুই পুত্র মহেশ্বর ও বিশ্বেশ্বরকে গ্রেফতার করেছে।পুলিশ আজ ধৃতদের নিয়ে নূতনচটির বিবাদস্থলে হাজির হয়। সেখানে এই খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে এলে প্রচুর মানুষ ভিড় জমায়। সেই ভিড় থেকে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে। জনতাকে সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিহত মথুরাবাবু ও তার পুত্রের ও স্ত্রীর ড্যামি বানানো হয়। এরপর আসামিদের দিয়ে ঘটনার পুনরাবৃত্তি করানো হয়। তারপরই কড়া পুলিশি পাহারায় আসামিদের নিয়ে পুলিশ গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা দেয়।
এদিকে এই নৃশংস ও ভয়াবহ কান্ডের প্রতিবাদে আজ সিপিএমের পক্ষ থেকে মিছিল শহর পরিক্রমার পর পথসভার আয়োজন করা হয়। পথসভায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

