সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ সেপ্টেম্বর: দুদিনের ভারী বৰ্ষণে বিপৰ্যস্ত বাঁকুড়া জেলার জনজীবন। গত মঙ্গলবার মাঝ রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির বিরাম নেই। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩১ মিলিমিটার। এই অতি বর্ষণের ফলে গোটা জেলা বানভাসি হয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সবচাইতে খারাপ অবস্থা বড়জোড়ার মানাচরগুলির সাথে এই ব্লকের পূর্বাংশ, সোনামুখী, পাত্রসায়ের, বিষ্ণুপুর ব্লক। এছাড়াও বাঁকুড়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। তার সঙ্গে দ্বারকেশ্বর ও গন্ধেশ্বরী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত অবস্থায়। ফলে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে গেছেন বাসিন্দারা।
বাঁকুড়া শহরের সতীঘাটে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর যে কজওয়ে ছিল তা গত তিনবছরের বেশি সময় ধরে ভেঙ্গে ফেলে রাখা হয়েছে নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য। নির্মাণকাজ থমকে থাকায় উত্তর বাঁকুড়ার মানুষকে ঘুর পথে শহরে ঢুকতে হচ্ছে। পুর প্রশাসক বোর্ড অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্দশা কমানোর জন্য সেই অস্থায়ী সেতুটি প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছিল। গন্ধেশ্বরীর দুর্বার গতিতে সেই সেতু নিশ্চিহ্ন। গোটা বাইপাস এলাকা গন্ধেশ্বরী নদীর সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। জেলার দামোদর, কাঁসাই, কংসাবতী, শিলাবতী, গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শালী, ভৈরবী সহ প্রত্যেকটি নদী এবং জোড় দু’কূল ছাপিয়ে ফুঁসছে। জেলায় কয়েকশো কজওয়ে জলের তলায় চলে গেছে। ফলে বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ডুবে গেছে। গর্ভবতী আমন ধানগাছ গুলি বের হবার অপেক্ষায় রয়েছে। দু’দিনের মধ্যে জল না নামলে প্রায় সমস্তটাই পচে যাবে। এবার বর্ষা ভালো হওয়ায় আমন চাষ এত ভাল হয়েছিল যে চাষিরা দ্বিগুণ ফলনের আশায় খুশিতে ডগমগ ছিলেন। কিন্তু পুজোর আগে বঙ্গোপসাগরের এই ঘূর্ণাবর্ত সব শেষ করে দিল বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলার চাষিরা।

এদিকে দামোদরের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বেলা ৩ টা পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ কিউসেক জল ছাড়ায় বড়জোড়া ব্লকের মানাচরগুলি বন্যার কবলে পড়েছে। বিধায়ক অলক মুখার্জি ওইসব এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, মানার বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের জন্য ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই মানাচর গুলিতে মিনিকেট ধানের চাষ অত্যন্ত ভালো হয়। এই ধান প্রায় পেকে এসেছে। দামোদরের জল সেই পাকা ধানে মই দিয়ে দিল বলে আক্ষেপ করেন অলক মুখার্জি।
এদিন সকালে বাঁকুড়ার জেলাশাসক কে রাধিকা আইয়ার ও পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার দুর্গত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান। জেলাশাসক জানান, বহু এলাকা বন্যাকবলিত। কৃষি জমিগুলি জলের তলায়। বহু ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি ব্লকে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বিডিও অফিস থেকে ত্রাণের সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই কিছু বলা যাবে না বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন। উত্তর বাঁকুড়া, গঙ্গাজলঘাঁটি ও মেজিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মেজিয়ার মাতাবেল জোড়ের কজওয়েটি ভেঙ্গে পড়েছে। অন্যদিকে শালী নদীর উপর অমরকানন- রনবহাল সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে রাতের দিকে আর বৃষ্টি না হলে কজওয়েগুলির জল নেমে যাবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।


