দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান, চন্দ্রকোনার নার্সিং পড়ুয়া তিথি আর হাসপাতাল থেকে ফিরল না

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ সেপ্টেম্বর:
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোনের আবেদন নাকচ করেছিল ব্যাঙ্ক। হতাশায় বিষ খেয়েছিলেন চন্দ্রকোনার নার্সিং পড়ুয়া তিথি
দোলই।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার নার্সিং পড়ুয়া ছাত্রী তিথি দোলই (১৮)এর। হাসপাতালের আইসিইউতে ১৭ দিন থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ব্যাঙ্গালোরে একটি নার্সিং কলেজে ভর্তি হয়ে ফি মেটানোর জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোনের আবেদন করেছিলেন। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক নাকচ করেছিল আবেদন। হতাশায় বিষ খেয়েছিল সে।

উল্লেখ্য, ১৪ ই আগস্ট রবিবার রাতে বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে চন্দ্রকোনা পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড ভেরবাজার গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব দোলইয়ের মেয়ে তিথি দোলই। তাকে প্রথমে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ আগস্ট সোমবার রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল তিথি।বিষ খাওয়ার কারণ হিসাবে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিথি কলেজে ভর্তি হয়, কিন্তু পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে ব্যাঙ্গালোরে একটি নার্সিং ট্রেনিং কলেজে ভর্তি হয় পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে টাকা জোগাড় করে।পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় পরবর্তী সময়ে নার্সিং পড়ার দ্বিতীয় কিস্তির মোটা টাকা মেটাতে না পারায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ হারায়, বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসে সে। তারপর রাজ্য সরকারের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালায়, যাতে সেখান থেকে লোন পেয়ে তার পোড়াশোনা চালাতে পারে। কিন্তু প্রশাসনিক দপ্তর থেকে ব্যাঙ্কে ঘুরেও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকে নার্সিং পড়ুয়া ছাত্রী তিথি। আর তা থেকেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং ১৭ দিন চিকিৎসা চলার পর মৃত্যু হয় ওই ছাত্রীর। ঘটনায় শোকের ছায়া ছাত্রীর পরিবারে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলার সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমে জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বৃহস্পতিবার বলেন, “বলা হয়েছে ছাত্রীটির ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদন ব্যাঙ্ক বাতিল করে দিয়েছিল। চন্দ্রকোনার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিভাগীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারে ওই ছাত্রী ব্যাঙ্গালোরে যে নার্সিং প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হয়েছিল সেটি ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদিত নয়। তাই ওই অনুমতি পায়নি ক্রেডিট কার্ডের জন্য। তবে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে, বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *