আমাদের ভারত, ২৩ নভেম্বর: শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠালো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক শুক্রবারই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে সংক্ষিপ্ত চিঠি পৌঁছে দিয়েছে বলে খবর। বিশেষ বাহক মারফত পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় হাই কমিশনার যেন বিদেশ মন্ত্রককে চিঠিটি যথাসম্ভব দ্রুত পৌঁছে দেন। যদিও নয়া দিল্লির তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
গত বছর জুলাই- আগস্টে বাংলাদেশের ছাত্র- জনতা বিক্ষোভের পরে ক্ষমতাচ্যুত হন সেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি ভারতে সাময়িকভাবে আশ্রয় নেন। এখনো তিনি ভারতেই রয়েছেন। ছাত্র- জনতার আন্দোলনের সময় সে দেশে গণহত্যার অভিযোগে তুলে মামলা হয় হাসিনার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সেই মামলায় হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, তার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। এই অবস্থায় ফের হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
হাসিনাকে ফেরত চেয়ে এর আগেও ভারতকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সরকার ঐ কূটনৈতিক বার্তার প্রাপ্তি স্বীকার করলেও সে প্রসঙ্গে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে জানায়নি।
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যার্পন চুক্তি রয়েছে। হাসিনার জমানাতে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়, প্রত্যার্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। তবে সেক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও রয়েছে। চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে অপরাধের চরিত্র যদি রাজনৈতিক থাকে তাহলে প্রত্যার্পণ করা হবে না।
পাশাপাশি খুন, গুম করা এবং অত্যাচারের মতো বিষয়, যেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটিতেই হাসিনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় রাখা হবে না বলেও যুক্তিতে বলা হয়েছে।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনো উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে ভারত ও বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যার্পণ করবে না।
হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের ট্রাইবুনালে রায়ের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ভারত। মোদী সরকারের তরফে জানানো হয়, হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যে রায় দিয়েছে সে সম্পর্কে অবগত ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের এই বিবৃতিতে বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভারত সবসময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করবে ভারত সরকার।

