অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২১ নভেম্বর: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের অনেকে দারুণ উল্লসিত। সমাজমাধ্যমে এই উল্লাস প্রকাশের একাধিক ভিডিও ভাসছে। এর প্রবল সমালোচনা করলেন অনেকে।
মনামী বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রচুর কিশোর-যুবকের উদ্দাম উল্লাস। তার মাঝেই একজন বলছেন, “অসাধারণ! অসাধারণ! অসাধারণ! সবচেয়ে অপছন্দ করি ইণ্ডিয়াকে। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে এইভাবে হারতে হল ওদের। এর সেয়ে ভাল কিছু হইতে পারে না।” অপর একজনের মুখে শোনা গেল, “আমি বললুম ইণ্ডিয়া হারা মানেই আমাগো কাছে পৈশাচিক আনন্দ। ক্রিকেটে অষ্ট্রেলিয়া জিতসে। কিন্তু আমাগো কাসে মনে হইতাসে বাংলাদেশ কাপ জিতসে। এ যে কী আনন্দ, বলে বোঝাতে পারুম না।“
ভিডিওতে অপর একজন বলেন, “আমরা ভাই ইদ পালন করতাসি। ঠিক আসে?” আর একজন বলেন, “অষ্ট্রেলিয়া জেতায় যতটা না খুশি হইসি, তার চেয়ে বেশি খুশি হইসি ইণ্ডিয়ার পরাজয়ে।“ অপর একজনের মুখে শোনা গেল, “ইণ্ডিয়া আমাদের গোনায় ধরেই না! কোয়ার্টার ফাইনালে আমাগো কারসুপি কইরা হারাইসে। এটা ঠিকই ইণ্ডিয়া আমাগো প্রতিবেশি দেশ। কাপটা এশিয়ায় থাকলে হয়ত ভাল হত। কিন্তু বাংলাদেশের এইটি পারসেন্ট লোক ইণ্ডিয়ার বিরুদ্ধে।“
এরকম একের পর এক নানা উল্লাসের প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যয় সুরে লিখেছেন, “বাংলাদেশের ইতর সম্প্রদায়।”
হরেন্দ্রনাথ কোলে লিখেছেন, “লজ্জার, ঘৃণার।” মনামী বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “এই নিকৃষ্টতম প্রাণীগুলোর কথা মাথায় রেখেই ম্যাচটা বিরাটদের জেতা উচিত ছিল।”
মলয় কুমার ঘোষ লিখেছেন, “কিন্তু এই দেশে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসে…! লজ্জার মাথা কেটে।”
কিংশুক চৌধুরী লিখেছেন, “ওরা ওরকমই হয়। অনেকে আমেরিকা, ইওরোপে বসে কেমন করে ইস্রায়েল-বিরোধী কথা বলে দ্যাখ না।“ অনিমিত্র চক্রবর্তী লিখেছেন, “এটাই তো প্রত্যাশিত। এই উল্লাসের প্রতিবাদে স্রেফ তিন দিন বর্ডার বন্ধ করুক ইন্ডিয়া। কোনো মাল ওদিকে যাবে না। তারপর দেখা যাবে দম এদের বিনা দানাপানিতে।”
তিতাস বৈদ্য লিখেছেন, “তো সেই সকল ৫৭টা দেশের একটাও তো আসেনি মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন করতে। আর চীন কি করতে পারে সেটা পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকাকে দেখলে বোঝা যায়। বাংলাদেশকে সব কিছু বাইরে থেকে আনতে হলে দেউলিয়া হয়ে যাবে কোনও দিন। এখনই যা মূল্যবৃদ্ধি আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার। ওইটুকু জায়গাতে এত মানুষ, জনঘনত্বে ভারতের থেকে বহুগুণ এগিয়ে।”
ধনঞ্জয় সামন্ত লিখেছেন, “সালাদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশ বানিয়ে আমরা ভুল করেছি।” ঋত্বিক দাস লিখেছেন, “নির্লজ্জ”। রেনেসাঁ চক্রবর্তী লিখেছেন, “নোংরা, লজ্জা নেই, বেইমান!” সুমিত ঘোষ লিখেছেন, “চুলকুনি হলেও তো সেই ইন্ডিয়ান ভিসার লাইনেই দাঁড়াবে ট্রিটমেন্টের জন্য। ওদের নিয়ে সময় নষ্ট করার মানেই নেই।” জয়ন্ত কর্মকার লিখেছেন, “ভারত কেন সহযোগিতা করে এদের? ভিসা তো এরাই পায় আমরা পাই না।”
অপর একটি ভিডিওতেও বাংলাদেশের অনেকের জয়োল্লাশ। সেটি যুক্ত করে জয়ন্ত কর্মকার ‘পাকিদের ফেলে যাওয়া অবৈধ মাল’— এই শিরোনামে লিখেছেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলে খুশি নয় তবুও “ভারত চোর” – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল উচ্চ শিক্ষার্থীর মনোভাব।
হয়তো ভারত সরকার এদেরকেই আইসিসিআর স্কলারশিপ দেবে আবার ভারতে ঘোরার জন্য ইয়ুথ কনক্লেভের ভিসা দেবে। আবার হয়তো এরাই পাঁচ বছরের টুরিস্ট ভিসা পাবে। মেডিকেল পাবে। এরকম ভারত বিরোধী না থাকলে ভারতের উন্নতি সম্ভব নয়!”
প্রতিক্রিয়ায় মল্লিকা মিত্র লিখেছেন, “বাংলাদেশের জন্য ইন্ডিয়া ভিসা বন্ধ করে দিক, তখন ভুয়ো না কী, বের হয়ে যাবে।”

