আমাদের ভারত, ৭ ডিসেম্বর: জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন বা এনআরসির পক্ষে আবারো জোরদার সাওয়াল করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, বাংলা, বিহার ও ঝারখন্ড বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে। ফলে বদলে গেছে রাজ্যগুলির জনবিন্যাস। তাই এই বাংলাদেশিদের ভারত ছাড়া করতে অবিলম্বে পূর্ব ভারতের এই তিন রাজ্যে এনআরসি চালু করতে হবে।
কয়েকদিন আগেও ধর্মতলার সভা থেকে রাজ্য সরকারকে নিশানা দেগে অনুপ্রবেশের জ্বলন্ত সমস্যা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর এই ইস্যুতে সংসদে দাঁড়িয়ে সুর চড়ালেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরা বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে। অবিলম্বে এই তিন রাজ্যে এনআরসি চালু করা উচিত। বাংলায় বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বরব বিজেপি। নিশিকান্ত দুবে বলেছেন, এই অনুপ্রবেশের জেরে বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের জনবিন্যাসও বদলে যাচ্ছে।
বুধবার সংসদের জিরো আওয়ারে বিজেপি সাংসদ বলেন, আমি এই নিয়ে একশোবার এই ইস্যুটা তুলেছি। বেআইনি অনুপ্রবেশের জন্য বাংলা, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। আমার নিজের রাজ্য ঝাড়খন্ড যখন বিহার থেকে আলাদা হল তখন এর জনসংখ্যার ৩৬ শতাংশ ছিল আদিবাসী। এখন সেটা কমে ২৪ শতাংশ হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বেশ কিছু এলাকার উল্লেখ করে করে নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, বাংলার বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশ বাড়লেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই মমতা সরকারের। এই একই পরিস্থিতি ঝাড়খন্ডেও। তাঁর বক্তব্য, আজ এমন পরিস্থিতি যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশেরকারীরা আসে আর আদিবাসীদের বিয়ে করে নেয় বলে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে। ঝাড়খণ্ডের গুড্ডা, পাকুড়, দেওঘর, জামতারা, সাহেবগঞ্জের মত জেলায় এই ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।একই সমস্যা রয়েছে বাংলা ও বিহারেও।
এর পরেই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা দেগে নিশিকান্ত বলেন, মমতা যখন সাংসদ ছিলেন তিনি নিজেই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন, অথচ মুখ্যমন্ত্রী হবার পর মালদা, মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে। অবিলম্বে ভারত সরকার এনআরসি করে এই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাক।

