আমাদের ভারত, ২০ জানুয়ারি:১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারির সময় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১৩.৫%। এরপর আরও চার চারটি আদমশুমারি হয়। ২০১১ সালের শেষ আদমশুমারি দেখা গেছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮.৫%হিন্দু। সমীক্ষা বলছে গত ৫০ বছরে মোট জনসংখ্যা সেখানে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু হিন্দুদের ক্ষেত্রে তা হয়নি বরং হিন্দুদের জনসংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ কমেছে। কিন্তু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর জনসংখ্যার হার একই রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অনুযায়ী হিন্দুদের জনসংখ্যার হার যদি ৫০ বছর আগেকার মতো থাকতো, তাহলে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের জনসংখ্যা হত ২ কোটি ২ লাখ ১৯ হাজার। কারণ ২০১১ সালে সর্বশেষ আদমশুমারিতে গোটা দেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৭২ হাজার। আর তার মধ্যে ১৩.৫ শতাংশ হারে হিন্দু থাকলে সেই সংখ্যা ২কোটির উপর হওয়ার কথা।
প্রথম আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮হাজার। যার মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ১৩ হাজার। ৮৫.৪ শতাংশ ছিল মুসলমান। কিন্তু সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ রয়েছে হিন্দু। সেই হিসেবে হিন্দুদের জনসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ এর কিছু বেশি। অর্থাৎ ৫০ বছরে হিন্দুদের জনসংখ্যা যা হতে পারতো তার চেয়ে ৭৫ লাখ কম।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে মিসিং হিন্দু পপুলেশন বা হারিয়ে যাওয়া হিন্দু জনগোষ্ঠী বলেছেন। প্রতি দশকে ১৫ লাখের বেশি হিন্দু কমে গেছে সেখানে। কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটল? এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ রয়েছে। সেদেশের বিশেষজ্ঞদের মতে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার দুটি কারণ। হিন্দুদের আউট মাইগ্রেশন হচ্ছে হঠাৎ হিন্দুরা বাংলাদেশ ছাড়ছেন। দ্বিতীয় হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট প্রযোনন হার বা টোটাল ফার্টিলিটি রেট তুলনামূলক কম অর্থাৎ হিন্দু দম্পতিরা তুলনামূলকভাবে কম সন্তান জন্ম দেন।

