অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১০ জুলাই: গতকাল কি না কী নিয়ে সংক্ষেপে একপ্রস্থ আলোচনা করেছি। বিষয়টা নিয়ে আজ আর একপ্রস্থ আলোকপাত করলেন আনন্দবাজার পত্রিকার প্রাক্তন উপ বার্তা সম্পাদক শম্ভু সেন। আদতে পদার্থবিদ্যার ছাত্র শম্ভুদা প্রায় ৪৭ বছর ধরে বাংলার শব্দভান্ডার নিয়ে গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা করেন।
তাঁর মতে, (১) প্রশ্নবোধক অব্যয় ছাড়াও কথার লব্জে যখন ‘কি’ আসে তখনও হ্রস্ব ই-কার হবে। যেমন – ‘চাই-কি তোমার সঙ্গে আমি যেতে পারি’, কিংবা ‘আমি তোমার সঙ্গে যাব বই-কি!’ কথার লব্জে আসা ‘কি’ বলহীন অর্থাৎ stress নেই। তাই চাই-কি, বই-কি, এমনকি ইত্যাদি।
এ ভাবেই অর্থ ভেদে ‘এমনকি’ বা ‘এমন কী’-র প্রয়োগ আছে। যেমন – ‘এমনকি আমিও সেখানে চলে গিয়েছিলাম’; অথবা ‘এমন কী কথা বললাম যে তুমি রাগ করলে?’ প্রথম বাক্যে দেখুন, ‘এমনকি’ উচ্চারণে কোনো বল বা stress নেই, দ্বিতীয় বাক্যটির ক্ষেত্রে ‘এমন কী’-র উপর জোর আছে।
(২) এ ভাবেই তফাত করতে হবে ‘সে কী’ আর ‘সে কি’-এর মধ্যে। প্রথম ‘সে কী’-তে জোর আছে – ‘সে কী? কখন এ সব ঘটল?’ এই ‘সে কী’ বিস্ময়বাচক শব্দ। আর দ্বিতীয় ‘সে কি’ হ্যাঁ-না প্রশ্নের কি – ‘সে কি এল?’
(৩) বাংলায় ‘কি’ আর ‘না’ বিচ্ছিন্ন ভাবে প্রয়োগ হয় আবার সংযুক্ত ভাবেও প্রয়োগ হয়। – যেমন, প্রথম ক্ষেত্রে ‘তুমি বলবে কি না, বলো’; অর্থাৎ বলবে কি বলবে না, বলো। আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কথার মাত্রা হিসাবে – ‘তুমি বলবে কিনা তাই ছটফট করছ’- অর্থাৎ বলবে বলে ছটফট করছে – দু’টি ক্ষেত্রেই ক-এ হ্রস্ব ই-কার।
(৪) ‘কি’-এর এই প্রয়োগ ভিন্ন বাকি সব ক্ষেত্রেই ক-এ দীর্ঘ ঈ-কার।
বিশেষণের বিশেষণে– ‘কী চমৎকার!’
প্রশ্নমূলক সর্বনামে – ‘কী গাব আমি, কী শুনাব।’
বিকল্পাত্মক বিশেষণে – ‘কী যদু কী মধু, দুটোই সমান পাজি।
কীসে, কীসের, কী ভাবে, কী রকম, কী জন্য, কী রে, কী হে – এগুলিতেও ক-এ দীর্ঘ ঈ-কার।
‘কেমন করে’ বোঝাতে ‘কী’ ব্যবহার হলে তখনও ক-এ দীর্ঘ ঈ-কার। যেমন – ‘যাব কী, যা ভয়ংকর জায়গা’; কিংবা ‘খাব কী, যা বিশ্রী খেতে’ ইত্যাদি।“
***

