দণ্ডি কাটা বিতর্কে প্রদীপ্তাকে গ্রেফতারের দাবি! আদিবাসীদের ডাকা বাংলা বনধে শুনশান বালুরঘাট, ব্যাপক সাড়া গোটা উত্তরবঙ্গে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৭ এপ্রিল: আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে দন্ডি কাটানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তায় নামলো কয়েক হাজার আদিবাসী। সোমবার সকাল থেকে সশস্ত্র আদিবাসীদের এমন আন্দোলনের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দক্ষিন দিনাজপুর। পুলিশকে সামনে রেখে সকাল থেকে দু একটি সরকারী বাস চালানোর চেষ্টা হলেও আদিবাসীদের বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত তাও বন্ধ হয়ে যায়। চলে বালুরঘাট শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র আদিবাসীদের পিকেটিং। আর যার জেরেই কার্যত শুনশান পরিস্থিতি তৈরি হয় গোটা বালুরঘাটে।

শহরের হিলি মোড় ও থানা মোড়ে সশস্ত্র আদিবাসীদের এমন আন্দোলনের জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথ চলতি মানুষজন। মোটর বাইক বা সাইকেল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যেতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। পুলিশের সামনে সাধারণ মানুষকে রীতিমতো মারধর করতেও দেখা গেছে এদিন বিক্ষোভকারীদের। সবশেষে তৃণমূল নেত্রী তথা এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শহরজুড়ে একটি সশস্ত্র মিছিলও করতে দেখা গেছে শতাধিক আদিবাসী পুরুষ মহিলাকে। তাদের দাবি, দণ্ডি কাটা কান্ডের ঘটনায় জড়িত প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযানের জেলা নেতা বিক্রম মুরমু বলেন, আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে রাতের অন্ধকারে দণ্ডি কাটাবার পরেও গ্রেফতার হয়নি এই ঘটনার মূল নায়িকা প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। তার গ্রেফতারের দাবি জানিয়েই এদিন তারা বাংলা বনধ সফল করেছেন অতি শান্তিপূর্ণ ভাবেই। মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বনধ সফল করেছে। এর পরেও ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা না হলে আদিবাসীদের ভিন্নরূপ দেখবে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অপরাধে তপনের গোফানগরের চার আদিবাসী মহিলাকে রাতের অন্ধকারে বালুরঘাট শহরে নিয়ে এসে দণ্ডি কাটান তৃণমূলের প্রাক্তন মহিলা নেত্রী। যদিও তার দাবি, ওই আদিবাসী মহিলারা নিজে থেকেই দণ্ডি কেটেছিল। ঘটা করে তাদের তৃণমূলে ওইদিন রাতে যোগদানও করিয়েছিলেন তিনি। আর যে ভিডিও ভাইরাল হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েন ওই মহিলা নেত্রী। ঘটনা নিয়ে বালুরঘাটে বিক্ষোভ, মিছিল আন্দোলন করেন আদিবাসীরা। আন্দোলনে নামে বিজেপি ও বামফ্রন্টও। কিন্তু ঘটনার পর প্রায় দশদিন অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনো গ্রেপ্তার হয়নি এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। আর এরই প্রতিবাদে আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান এদিন বাংলা বন্ধের ডাক দেয়। যে বনধে ব্যাপক সাড়া লক্ষ করা গেছে বালুরঘাট সহ গোটা দক্ষিন দিনাজপুরে।

সকাল থেকে সশস্ত্র আদিবাসীদের পিকেটিং এর জেরে বাজার পর্যন্ত বসতে পারেনি শহরে। আর এতেই শুনশান পরিস্থিতি তৈরি হয় গোটা বালুরঘাট শহরে। যা রাজনৈতিক দলগুলির ডাকা বনধকেও অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। আর তাকে ঘিরেই এখন শহরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

আদিবাসীদের ডাকা এই বনধ পালনে কেন মানুষের এত স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল এদিন। সেই প্রশ্নই এখন গোটা দক্ষিন দিনাজপুরে। তবে কি সাধারণ মানুষও চাইছে এই ঘটনার মূল অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *