কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে স্বজনপোষণ করছে বনগাঁ পৌরসভা, দাবি বিজেপি বিধায়কের

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৩ আগস্ট: কোভিড পরিস্থিতির মাঝেই ভ্যাকসিন দুর্নীতিতে উত্তাল বনগাঁ। প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি বিধায়কের উপরে চরাও।

ভ্যাকসিন নিয়ে চূড়ান্ত দুর্নীতি চলছে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হল বনগাঁর তিনটি সেন্টার। ঘটনাস্থলে দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গেলে শাসকদলের নেতারা বনগাঁর বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার উপরে চরাও হয়। মঙ্গলবার এই ঘটনার জেরে উত্তেজিত স্বাস্থ্য কর্মীরা সেন্টারে কিছুক্ষণের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ বন্ধ করে দেয়।

এদিন বনগাঁর পাঁচটি সেন্টারে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছিল। বনগাঁর বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার অভিযোগ, এই পাঁচটি সেন্টারের ভ্যাকসিন নিয়ে স্বজনপোষণ করছে বনগাঁ পৌরসভা। তিনি বলেন, এলাকার গ্রহীতারা ভোর রাত থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পর বেলা বাড়তেই বে-লাইনে তৃণমূল নেতা কর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। অথচ দীর্ঘক্ষণ যারা লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভ্যাকসিন মিলছে না। স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন আজ দেওয়া যাবে না। এমনই ঘটনার খবর পেয়ে বনগাঁর রামকৃষ্ণপল্লি সেন্টারে বিজেপি বিধায়ক প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁর উপরে চরাও হয় বেশ কিছু দুষ্কৃতী। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শুরু হয় ভ্যাকসিন সেন্টারের সামনে গ্রহীতাদের তুমুল বিক্ষোভ, বন্ধ করে দেওয়া হয় ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ।
ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছে ভ্যাকসিন নেই অথচ বাইরে থেকে লোকজন এসে ভ্যাকসিন নিচ্ছে।

বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া বলেন, বনগাঁ টাউন হল চত্বর সেন্টারে বেশ কিছু দালাল ১০০ টাকার বিনিময়ে বে-লাইনে লোক ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বনগাঁর প্রশাসক গোপাল শেঠ বলেন, কোনও সেন্টারেই স্বজনপোষণ চলছে না। প্রতিটা সেন্টারে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু ভাবে ভ্যাকসিন নিচ্ছে। অশোকবাবু নিজেই সেন্টারে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলি থেকে টোকেন সিস্টেম চালু করলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখোমুখি হতে হবে না। তাতে ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে কোনও অভিযোগও উঠবে না, দুর্নীতিও আটকানো যাবে।’

এই প্রসঙ্গে গোপাল শেঠ বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে টোকেন সিস্টেম চালু করার ব্যাপারে সরকারের কোনও গাইডলাইন নেই। ফলে এই ধরনের কোনও প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। যারা আগে লাইনে এসে দাঁড়াবেন, সরবরাহ অনুযায়ী তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *