সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৬ আগস্ট: বনগাঁ- দিঘা রুটে বন্দে ভারত ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিলেন বনগাঁর বিধায়ক। ভারতীয় রেলে এই মুহূর্তে সবথেকে অন্যতম ট্রেন বন্দে ভারত। সেমি বুলেটের এই হাইস্পিড ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চালু করা হয়েছে। সাড়াও মিলছে বেশ। ফলে রেল মন্ত্রক নতুন নতুন রুটে বন্দে ভারত চালানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। শনিবার বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্ত শহর বনগাঁ থেকে দিঘা পর্যন্ত একটি বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর ব্যাপারে চর্চা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে এব্যাপারে সরাসরি প্রস্তাব দিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া।
রেলমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লিখিত আবেদনে তিনি জানিয়েছেন, এশিয়ার সর্ববৃহৎ ল্যান্ডপোর্ট পেট্রাপোল। এই সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভারতে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বেড়াতে আসেন। এছাড়াও, বনগাঁ, বারাসত, বসিরহাট, ব্যারাকপুর সহ জেলাজুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনারও বহু মানুষ প্রতিনিয়ত দিঘায় বেড়াতে যান। সেইসব পর্যটকদের সুবিধার্থে যদি বনগাঁ থেকে সরাসরি দিঘা পর্যন্ত একটি বন্দে ভারত ট্রেন চালু করা যায়, তাহলে এই বৃহৎ অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের একাংশের পর্যটকরাও উপকৃত হবেন। লাভবান হবে রেলমন্ত্রকও। প্রস্তাবিত এই ট্রেন রুটে বনগাঁ থেকে ট্রেন ছাড়ার পর হাবড়া, বারাসত, দমদম, ডানকুনি, পাঁশকুড়া হয়ে দিঘা পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া জানিয়েছেন, তাঁর এই প্রস্তাবে প্রাথমিক ভাবে সম্মতি জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এব্যাপারে রেলের পদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, অশোক কীর্তনীয়ার প্রস্তাব মতো রেলমন্ত্রক বনগাঁ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি রেল ওভারব্রিজ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি বনগাঁ- দিঘা বন্দে ভারত ট্রেন চালু হলে বনগাঁ সহ এই জেলার মানুষের জন্য অনেক বড় পাওনা হবে। এখন দেখার, নতুন এই প্রস্তাব কবে বাস্তবায়িত হয়।
বনগাঁর চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ বলেন, বনগাঁ স্টেশনের কোনো পরিকাঠামো নেই যে এখান থেকে দিঘা বন্দে ভারত ট্রেন চলবে। আগে পরিকাঠামো তৈরি করুক তখন মানুষকে বার্তা দেবেন।

