সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৩ জুন: বিজেপি বুথ সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ করলেন গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। এই রাজ্যে বিরোধীরা কতটা সুরক্ষিত? তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিজেপি বিধায়ক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাইপুর গ্রামের ৬৮ নম্বর বুথ এলাকায়।
সূত্রের খবর, সভাইপুর গ্রামের ৬৮ নম্বর বুথ সভাপতি দিলীপ মজুমদারের বাড়ি লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বোমা মারার অভিযোগ উঠেছে। বুথ সভাপতি দিলীপ মজুমদার বলেন, গতকাল রাতে হঠাৎ করে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে তাদের পরিবারের। এরপর বাইরে বেরিয়ে তারা ধোঁয়া দেখতে পান। এরপরে লক্ষ্য করেন যে, বাড়ির পিছনের দিকে বোমের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই বোমা মেরেছে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসে বনগাঁ থানার পুলিশ।
এই বিষয়ে বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি। রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ এই বোমাবাজি হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনার ২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বিধায়ক বলেন, এই রাজ্যে বিরোধীরা কতটা সুরক্ষিত? মুখ্যমন্ত্রী একজন রক্ত পিপাসু মহিলা, তিনি রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার হিসাবে একজন মাতালকে বসিয়েছেন। রাজ্য জুড়ে বিরোধীদের রক্ত নিয়ে খেলায় মেতেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক আরও বলেন যে, কোনও প্রাণহানি ঘটলে তার দায়িত্ব নিতে হবে কমিশন এবং রাজ্যের শাসক দলকেই। এই এলাকায় বিজেপির মনোনয়নের ফলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে আর তাই আমাদের বুথ সভাপতিদের বাড়িতে গিয়ে বোমাবাজি করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে মত প্রকাশ করেন বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া।
রাজ্যজুড়ে নির্বাচনে শাসক দলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন। ব্যারাকপুরে মনোনয়নের পর থেকে কোলের সন্তান নিয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন বিজেপির মহিলা প্রার্থীরা। মেদিনীপুরের দাসপুরে বিরোধী প্রার্থীর বাড়িতে পাঠানো হয়েছে সাদা থান। হুমকি দেওয়া হয়েছে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। এবার অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁয় বোমাবাজির। বিজেপি কোনও প্রার্থী, কর্মী, নেতা কেউ সুরক্ষিত নয় বলে দাবি করেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। ৮ জুলাই একদফা পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন, রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কতটা শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচন করাতে পারে সেটাই এখন দেখার।

