স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৩ ফেব্রুয়ারি: আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি পবিত্র কুম্ভ স্নান যাত্রা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই কুম্ভে এসেছে বহু সাধু-সন্ত ও ভক্তেরা। কল্যাণীর শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাট, হুগলীর ত্রিবেণী সঙ্গমের ত্রিবেণী, সপ্তর্ষি ও রাজঘাটে স্নানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কথিত আছে শ্রীচৈতন্যদেব দীক্ষা নেবার সময় এই ঘাটে নেমেছিলেন তখন থেকেই এই ঘাটের নাম গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ঘাট হয়েছে।
জানাগেছে, ৭০২ বছর আগে এই ত্রীবেণী সঙ্গমে সনাতনী কুম্ভ হয়েছিল। এরপর পার হয়ে গেছে বহু শতক বছর। এত বছর পর এইবার সেই কুম্ভ যোগের মেলা শুরু হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা। ঐতিহাসিক এই কুম্ভ স্নানের সাক্ষী হল ত্রিবেণীবাসী।

এই মেলার উদ্যোগ নিয়েছে বাঁশবেড়িয়া পৌরসভা ও ত্রীবেণী কুম্ভ পরিচালন সমিতি। এই কুম্ভ স্নানের সাক্ষী হতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লক্ষাধিক সাধু-সন্ত ও ভক্তেরা আজ সমায়িত হয়েছে। এই স্থানের নিরাপত্তা ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ আধিকারিকরা। আজ বহু সাধু-সন্ত্র সনাতন ধর্মের মার্গদর্শনের জন্য ও মোক্ষলাভের জন্য পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করবেন। স্নানের পর সাধুরা যজ্ঞ করবেন। সাধারণত হরিদ্দার, উজ্জয়ণী, এলাহাবাদ ও নাসিক এই চার জায়গায় কুম্ভ স্নানের পবিত্র স্থান হিসাবে চেনেন। তবে কথিত আছে মহাভারতের “বনপর্বে” পুলস্ত মুণী এই ত্রিবেণী তীর্থে কুম্ভের কথা উল্লেখ করেছেন। আজ এই পবিত্র কুম্ভের ফলে পবিত্র হয়ে উঠবে বঙ্গ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, “এই মেলায় সংগঠিত হয়েছে ১০৮টি ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে ভারত সেবাশ্রম, ইস্কন, নাথ পরম্পরা নানান ধর্মীয় সংগঠন।
এই মেয়ালার আয়োজনে খুশি জেলার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কথায়, বহু সাধু- সন্নাসীদের সমাগমে পবিত্র হয়ে উঠেছে এই স্থান।

