সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৫ নভেম্বর: ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের অন্যতম প্রাণের উৎসব ‘বাঁদনা পরব’। আজ সেই উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে রাত জাগবেন ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের গ্রাম বাংলার মানুষ। তারই শেষ মুহূর্তের তোড়জোড় চলে ঘরে ঘরে। মূলত গো-বন্দনা হিসেবে এই উৎসব বেশি পরিচিত।
বাঁদনা পরব আসলে আমন ধান বাড়িতে তোলার আগে গরু বন্দনা করে কৃতজ্ঞতা জানানোর রীতি বলে নৃতত্ত্ববিদদের মত। স্থানীয়দের বিশ্বাস কালীপূজোর রাতে মর্ত্যলোকের প্রতিটি বাড়িতে আসেন স্বয়ং শিব। তাই বাড়ির মহিলারা পুজোর আগে মাটির প্রলেপ দিয়ে ঘরকে সাজিয়ে তোলেন। অমাবস্যার রাতে পুরুষরা দল বেঁধে ঢোল ধামসা সহকারে অহিরা গান(বিশেষ গান) গেয়ে গরুকে জাগিয়ে রাখেন। পরের দিন আলপনা দিয়ে গোয়াল ঘর সহ আঙ্গিনাকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। তারপর গোয়ালে পুজো করে গরু ও মহিষকে তেল ও সিঁদুর দিয়ে বরণ করা হয়। তৃতীয় দিন তাদের যত্ন করে ঘাস, খড় খাওয়ানো হয়। বিকালে হয় গরু খুঁটা। সেখানে গ্রামের সকলেই উপস্থিত হন।

কিন্তু মাঝপথে করোনা পরিস্থিতির জন্য ছেদ পড়েছিল এই উৎসবের আনন্দে। করোনার ঢেউ ধীরে ধীরে কাটিয়ে গবাদি পশুদের রক্ষার জন্য এবার বাদনা পরবে মেতে উঠবেন গ্রাম বাংলার মানুষ। তারই প্রস্তুতি এখন গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে। আজ ছিল উৎসবের প্রথম দিন।

