খবরের জের! খাড়ি ভরাট নিয়ে বাম কাউন্সিলরের উপর দায় চাপিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা চেয়ারম্যানের, একাধিক বিধিনিষেধ জারি বালুরঘাট পুরসভার

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ ডিসেম্বর: খবরের জেরে খাড়ি বন্ধের অভিযোগ নিয়ে নড়েচড়ে বসল বালুরঘাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এলাকায় গিয়ে বিগত বাম কাউন্সিলরের উপর দায় চাপিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টা চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের। বুধবার দুপুরে পুরসভার একটি বিশেষ টিমকে নিয়ে নিজের এলাকায় গিয়ে খাড়ি ভরাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখেন চেয়ারম্যান। তার দাবি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লী এলাকায় এই অবৈধ দখল বিগত বাম কাউন্সিলরের আমলেই শুরু হয়েছে। তারা অভিযোগ পেয়েই এলাকায় পৌছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। একই সাথে যে কোনো প্রকার ভরাট রুখতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ পুরসভার।

উল্লেখ্য, বালুরঘাট শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণ পল্লী এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু প্রাচীন একটি খাড়ি। যা এলাকার বাসিন্দাদের কাছে শ্রীমন্তের খাড়ি নামেই পরিচিত। সময়ের সাথে সাথে খাড়িটি তার গতিপথ হারিয়ে ফেলতেই তার দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে জমি মাফিয়ারা। যাদের সাথে হাত মেলায় স্থানীয় কিছু তৃণমূল নেতৃত্ব বলে অভিযোগ। রাতারাতি বদলে যায় জমির চরিত্র, শুরু হয় ভরাট করে বড় বড় ইমারত গড়বার কাজ। ইতিমধ্যে ওই খাড়ি ভরাট করে একাধিক গাড়ি রাখবার গ্যারেজ থেকে শুরু করে বেশকিছু বিল্ডিংও তৈরি হয়েছে। শুরু হয়েছে অতি সুকৌশলে জায়গা ঘিরে তা ভরাটের কাজও।

সুত্রের খবর অনুযায়ী, যাদের মধ্যে অনেকেরই সেই দখলকৃত জায়গার সঠিক কাগজপত্রই নেই। রাতারাতি খাড়ি দখল করে এমন ভরাটের ঘটনা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে পুর প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়ে অনেকেই দ্বারস্থ হয়েছেন মহকুমা প্রশাসনের। কেননা খোদ পুর চেয়ারম্যানের নিজের এলাকায় দিনের আলোতেই এমন অবৈধ খাড়ি ভরাট নিয়েই অবাক হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনা নিয়ে চেয়ারম্যানকে কিছুটা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিরোধীরা। আর যে খবর প্রকাশিত হতেই এদিন নড়েচড়ে বসে পুর প্রশাসন। চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় হাজির হয়ে পুরো এলাকা খতিয়ে দেখে পুর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় আগামীতে যে কোনো ভরাট রুখতে এলাকায় পুরসভার তরফে নিষিদ্ধকরনের বোর্ডও লাগিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। এলাকায় কারো ব্যক্তিগত জায়গা থাকলেও তা পৌরসভাকে দেখিয়ে নির্দিষ্ট দপ্তরের ভেরিফিকেশনের পরেই কাজ করার অনুমতি মিলবে বলেও জানিয়েছেন পুর চেয়ারম্যান অশোক মিত্র।

এলাকার বাসিন্দা অসীম দাস জানিয়েছেন, বাম আমলেই অবৈধভাবে ভরাট করে এলাকায় একটি স্কুল এবং বাড়ি তৈরী করা হয়েছিল। তখন পুরসভায় অভিযোগ করেও কোনো ফল হয়নি।

চেয়ারম্যান অশোক মিত্র জানিয়েছেন, অভিযোগ পেতেই তিনি আধিকারিকদের নিয়ে এলাকায় পৌঁছে খাড়ি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। যে কোনো অবৈধ ভরাট রুখতে পুরসভার তরফে বোর্ড লাগাবারও ব্যবস্থা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *