পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৪ মে: বাকচা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। বিজেপির ভোটের অঙ্ক কাজ করছে এই বাকচা এলাকাকে কেন্দ্র করে। সামনের লোকসভা নির্বাচনে এই বাকচা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই কোনও ভাবেই বাকচার রাজনৈতিক রাশ ছাড়তে রাজি নয় বিজেপি নেতারা। বৃহস্পতিবার, ময়নার নিহত বিজেপি নেতা বিজয়কৃষ্ণ ভুইঞার স্মরণ সভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, “বাকচায় প্রতিনিয়ত আমরা বিধায়ক, জেলা নেতৃত্বদের রাখব। সামনের লোকসভা নির্বাচনে এই বাকচার অবদান সব থেকে বেশি থাকবে”।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু জানান, “এই বাকচার জন্যই আমরা অশোককে বিধানসভায় জেতাতে পেরেছি। বাকচা একাই ১২ হাজার লিড দিয়েছিল। সেই কারণেই আমরা এখানে জিততে পেরেছি এবং আগামী লোকসভায় তমলুক কেন্দ্রে আমরা যে জিতব তাতে বাকচার অবদান সব থেকে বেশি থাকবে বলেই আমরা মনে করি”।

শুভেন্দু’র মতে, আমরা বিজয়কৃষ্ণর হত্যাকে পরিকল্পিত হত্যা বলেই মনে করি। এই হত্যা করিয়েছেন এই জেলার এসপি অমরনাথ। তিনি আসার পরে গত দেড় দু’ বছরে এই জেলাকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ভাইপোর নির্দেশে, তার ব্যবস্থা আমরা নেব চিন্তা করার কারণ নেই। এক অ্যাডিশনাল এসপিকে দিয়ে প্রদীপ লায়েক নামের এক কনস্টেবলের মাধ্যমে এই জেলা থেকে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা গাড়ি থেকে তোলা তোলেন। এখানে গোপাল বলে একজন ওসি এসে বাকচাকে তৃণমূলের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন অমরনাথের নির্দেশে। এরা তিনজন পরিকল্পনাকারী”।
শুভেন্দুর উক্তি, “এই হত্যার কাজে উসকানি কর্তা হলেন তৃণমূলের গুটিকয় নেতা। কিছুদিন আগে বাকচায় সৌমেন মহাপাত্রের নেতৃত্বে একটা সভা হয়েছিল, আমাদের পাল্টা সভা। সেখানেই ভুরি ভুরি উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করে এলাকা অশান্ত করা হয়েছে”। শুভেন্দুর দাবি, “তমলুক হাসপাতালে গায়ের জোরে বিজয়কৃষ্ণর দেহের ময়না তদন্ত হয়েছে। এবার কলকাতার কমান্ড হাসপাতালে ময়না তদন্তের রিপোর্টে সব প্রকাশ পাবে। এই ময়না তদন্তের রিপোর্ট আদালতের হাতেও যাবে। সোমবার আদালত কি রায় দেয় আমরা সেই দিকেই তাকিয়ে আছি”।
তাঁর দাবি, “আদালত এখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন কি না আমরা সেদিকে নজর রাখছি। আইনের ওপর আমাদের আস্থা আছে। যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্ত করে, তাহলে আমরা সব রকম সহযোগিতা করব। সাক্ষীদেরও আমরা সমস্ত রকম সহযোগিতা করব। আর আমাদের যদি গণআন্দোলনে নামতে হয় তাহলে তার জন্য দেরি আছে। সময় মতো আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নেব”।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, “আমি আছি তো এখানে। ২০০৭ সাল থেকে এখানে আছি। ২০ বছর হয়ে গেল এলাকা চিনি। কিছু ক্ষমতা আমাকে ভগবান দেননি। আমি ওনাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে বাকি যা আছে সব পাবেন, নিশ্চিন্ত থাকুন। প্রস্তুত আছেন তো, লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে তো। আর পঞ্চায়েতে নমিনেশন করিয়ে দেব। আর কাউন্টিং হল কলেজের বাইরে পাহারায় আমরা থাকব। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “বুথটাকে কে পাহারা দেবে? গ্রামটাকে কে পাহারা দেবে?” এরপরেই শুভেন্দুর শ্লোগান “দলিতের রক্ত, হবে না কো ব্যর্থ, নমঃসূত্রের রক্ত, হবে না কো ব্যর্থ”।

