অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৪ এপ্রিল: ১৪২৯ বঙ্গাব্দের পয়লা বৈশাখের সকালে অহর্নিশ গ্রন্থাগার ও মানবজমিন-এর ‘স্বাধীনতা ৭৫’ উদযাপনের শুভ সূচনা হবে। ‘অগ্নিযুগের অভিধান’-এর প্রণেতা অধ্যাপক শুভেন্দু মজুমদারের পরিচালনায় হবে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে অভিধান তৈরির এই অভিনব কর্মশালা।
ওয়ার্কশপে যারা যোগ দেবেন তাদের কী করতে হবে? শুভেন্দুবাবু জানান, “অশোকনগর মানবজমিনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে আমরা এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ১৫ এপ্রিল, ২০২২ বাংলা নববর্ষের সূচনা। ওই দিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দের সূচনা হবে। আমাদের উদ্দেশ্য হল স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও অসংখ্য বাঙালি বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম এখনও পর্যন্ত অবজ্ঞায় অবহেলায় পুলিশের বিভিন্ন জীর্ণ নথিতে ধুলোর আস্তরণে ঢাকা রয়েছে তাঁদের খুঁজে বের করা।
দেশের স্বাধীনতার জন্য বাঙালি কী অসাধারণ স্বার্থত্যাগ করেছিল আজ পর্যন্ত তার কোনও প্রামাণ্য নথি কী সরকারি কী বেসরকারি— কোনও ভাবেই তা এতোদিন প্রকাশ্যে আসেনি। আমাদের সংকলিত এই নথি দিয়ে ‘অগ্নিযুগের অভিধান’ গ্রন্থটির দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হবে। মনে রাখতে হবে, এইভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির ঐতিহাসিক ভূমিকার এক নয়া ইতিহাস রচনা করতে চলেছি আমরা— যা এতোদিন কেউ কোথাও তুলে ধরার চেষ্টা করেননি।
এইসব বিপ্লবীদের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি যা পুলিশের নথিতে ইংরেজিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে— তা বাংলা বর্ণানুক্রমিক সূচী অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব আমাদের সাজাতে হবে। যাতে “অগ্নিযুগের অভিধান ” গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ডে এঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ১৪২৯ বঙ্গাব্দের নববর্ষের দিন থেকে আমরা ঐকান্তিকভাবে এই কাজে অংশ নিতে চলেছি আমরা। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার বিপ্লবীর নাম-পরিচয় আমাদের সংকলন করতে হবে।“
প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দুবাবু এই প্রতিবেদককে জানান, ‘অগ্নিযুগের অভিধান’- এর প্রথম খন্ড গত বছর ডিসেম্বরে বেরিয়েছে। এতে মোট সূচি ৮৬৭। এর মধ্যে ব্যক্তি ৭৭৪, সমিতি ২২ টি, আইন/অর্ডিন্যান্স সার্কুলার ১৭ টি, ঐতিহাসিক মামলা ১৪ টি, ঐতিহাসিক ঘটনা ১২ টি, পত্রপত্রিকা ৮ টি, পুস্তক ৪ ও অন্যান্য ১৬ টি বিষয় রয়েছে।“

