জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ জুলাই: পাচারের আগে পুলিশের জালে ধরা পড়ল বস্তাভর্তি গাঁজা। ঘটনায় দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ফরিদপুর থানার লাউদোহার তিলাবনির জঙ্গলে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম অভিজিৎ আকুড়িয়া, লাউদোহার গোগলার বাসিন্দা ও অরুন ঘোষ, স্থানীয় হ্রদের ডাঙ্গার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের আসানসোল আদালতে তোলা হয়।
ঘটনায় জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে লাউদোহার তিলাবনির জঙ্গলে পুলিশ রুটিন তল্লাশী চালাচ্ছিল। ওইসময় ওই দুই যুবক মোটরবাইকে করে যাচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাদের তল্লাশী শুরু করে। তাদের কাছে থাকা একটি বস্তায় উদ্ধার হয় ২০ কেজি গাঁজা। তারপরই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তাদের মোটরবাইকটিও আটক করে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে পান্ডবেশ্বরের ডালুরবাঁধ এলাকায় ইসিএলের জবরদখল আবাসনে গাঁজা উদ্ধার হয়। ঘটনায় দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৪০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়। তারপর ১৬ মে লরির মধ্যে বক্স তৈরী করে, তার মধ্যে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচারের সময় দুর্গাপুর কোকওভেন থানা শ্যামপুর মোড়ে এসটিএফ ও পুলিশের জালে ধরা পড়ে আন্তঃরাজ্য গাঁজা পাচার চক্র। উদ্ধার হয় প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা। আটক হয় তাদের গাড়িগুলি।
গত ২০২১ সালের জুলাই মাসে নতুন গাড়ি করে গাঁজা পাচারের সময় দুর্গাপুর বীরভানপুর এলাকায় পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুই পাচারকারী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমানে গাঁজা। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে দুর্গাপুর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নীলডাঙা এলাকা থেকে প্রায় ২৫ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল। আনুমানিক যার মুল্য প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ঘটনায় শেখ মইনুদ্দিন নামে একজন ধরা পড়ে। তারও আগে গত ২০১৭ সালের জুলাই মাসে পাচারের আগে পানাগড়ে একটও হোটেল থেকে ৭৫ গাঁজা সহ ৫ জন পাচারকারী সিআইডির জালে ধরা পড়ে। প্রশ্ন, গাঁজা পাচারকারীরা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে করিডর হিসাবে ব্যাবহার করছে?
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের আদালতে রিমান্ড নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। সড়কের ওপর তল্লাশী অভিযান জারি আছে।”

