সুশান্ত ঘোষ, বাগদা, ২৭ জুন: তৃণমূলের অঘোষিত ব্লক সভাপতি বাগদার বিডিও। এখন তিনি সাধারণ মানুষের কাজ বন্ধ করে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন– এমনই দাবি করলেন বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব। সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও বিডিও–র এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিজিপি।
১০ মে বাগদার বিজেপি পরিচালিত সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লতিকা মন্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যরা। বিডিও তরফ থেকে ২৯ জুন ভোটাভুটির দিন নির্ধারণ করা হয়। তার আগেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান করা পঞ্চায়েত সদস্যদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, হাইকোর্টে আবেন করা সত্বেও বিডিও কী করে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করে ভোটাভুটির দিন ঠিক করলেন?
এই বিষয়ে সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লতিকা মন্ডল বলেন, যে তিন পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির প্রতীকে জিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি তারা পদত্যাগ করে তৃণমূলের সঙ্গে যাক। তারপরে জিতে আসুক। এলাকার সাধারণ মানুষও সেটাই চাইছেl
এই বিষয়ে বনগাঁ বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব জানান, বাগদার বিডিও অনৈতিক ভাবে এই অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। বিডিও অফিসে বসে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে শলাপরামর্শে করে আমাদের তিন সদস্যকে জোর করে সই করিয়েছে। এটা প্রমাণিত, তৃণমূলের অঘোষিত ব্লক সভাপতি বাগদার বিডিও। এখন তিনি সাধারণ মানুষের কাজকর্ম বন্ধ করে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। বিডিও অফিস এখন তৃণমূলের পার্টি অফিসের পরিণত করেছেন ওই বিডিও। আমরা বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আমাদের আশা, আমরা সঠিক বিচার পাব।
এই বিষয়ে সিন্দ্রানী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা তৃণমূলের আঞ্চলিক সভাপতি সৌমেন ঘোষ বলেন, আমাদের ভাবতেই অবাক লাগছে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাও তারা কোর্টে গিয়েছে। বিজেপি থেকে আসা তিন সদস্যের সদস্যপদ খারিজ নিয়ে তিনি বলেন, বিধানসভা ও লোকসভাতেই এই আইন পাস হয়নি(যদিও তিনি ভুল দাবি করেছেন।) পঞ্চায়েতে কি করে হবে। যারা এসেছে তারা স্বেচ্ছায় এসেছে। পাল্টা কোর্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা আগামীতে ভাববে বলে জানিয়েছেন।

