পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৫ মার্চ: লোকসভা নির্বাচনে ডাহা ফেল করে প্রার্থী হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা। শুক্রবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী ও প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাকে ছেটে ফেলা হয়েছে প্রার্থীর তালিকা থেকে। পুরোনো চার মুখকে সামনে রেখে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের এদিন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার সদর শহর বালুরঘাটে নতুন মুখ হিসাবে প্রার্থী করা হয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী শেখর দাস গুপ্তকে। লোকসভায় খারাপ ফল করায় টিকিট দেওয়া হয়নি বাচ্চু হাঁসদাকে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্ত্তীর নামও।
বালুরঘাটের বিশিষ্ট আইনজীবী শেখরবাবু জেলার একজন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও আইনজীবী হিসাবে পরিচিত। কংগ্রেসের হয়ে ১৯৮২ সালে কুমারগঞ্জ বিধানসভা আসনের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে সিপিএম প্রার্থীর কাছে সাত হাজার ভোটে হেরে যান। তারপর থেকে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ১৯৬৭ সালে বালুরঘাট হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বালুরঘাট কলেজে ভর্তি হন। স্নাতক পাশ করে কলকাতায় এলএলবি পড়তে যান। বাবাও ছিলেন একজন কংগ্রেসের নেতা ও জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী।
চারটি আসনে দলের আগের চার প্রার্থীকে দাঁড় করালেও দুটি আসনে নতুন মুখ নিয়ে এসেছেন। সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য গতবারের জেতা আসনের বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদার জায়গায় তপনে প্রার্থী করা হয়েছে বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্পনা কিস্কুকে। বাচ্চু হাঁসদার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন তিনি। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। কুশমন্ডী আসনে রেখা রায়কে প্রার্থী করা হলেও বিগত বিধানসভা নির্বাচনে আরএসপি প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন তিনি। বর্তমানে দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে পরিচিত রেখা রায় বিপ্লব মিত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
অপরদিকে জেলা সভাপতি হিসাবে গঙ্গারামপুর আসনে প্রার্থী করা হয়েছে গৌতম দাসকে, বিগত নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকেই বাম কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে লোকসভায় ভালো ফল করায় কুমারগঞ্জ আসনে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে বর্তমান বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডলকে। হরিরামপুর আসনে দলের জেলা চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে। মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের দিক তুলে ধরে জেলা থেকে ছয়টি আসনেই জয়লাভ করবে তৃণমূল, জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

