বিজেপির গঙ্গা আরতি ঘিরে ধুন্ধুমার বাবুঘাট, নাস্তানাবুদ পুলিশ, আটক সুকান্ত মজুমদার সহ দলের বহু নেতা ও সমর্থক

আমাদের ভারত, ১০ জানুয়ারি: বিজেপির গঙ্গা আরতি ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল বাবুঘাটে। বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মোকাবিলায় রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে দেখা গেল কলকাতা পুলিশকে। শেষ পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ বহু দলীয় কর্মীকে গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ।

মঙ্গলবার বাজে কদমতলা ঘাটে গঙ্গায় আরতি ও পুজোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু গঙ্গা আরতির অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি লিখলেও সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ, কিন্তু তারপরেও গঙ্গা আরতি করতে বদ্ধপরিকর ছিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন তিনি অবশ্যই আরতি করতে যাবেন। এরপর মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ বাবুঘাটে প্রথম গোলমাল হয় যখন আয়োজনের প্রস্তুতি দেখতে যাওয়া বিজেপি নেতা সজল ঘোষকে বাবুঘাট এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে বাবুঘাটে বাজে কদম তলায় বিজেপির তৈরি মঞ্চ খুলে দেয় পুলিশ।

কিন্তু কোনো ভাবেই দমানো যায়নি বিজেপিকে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি মেনে গঙ্গা আরতি কর্মসূচির জন্য রওনা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এদিকে ঘাটে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে রেখেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কর্মসূচি পরিবর্তন করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি গঙ্গার অন্য আর একটি ঘাটে গিয়ে গঙ্গা আরতি সারেন। তারপর সেখান থেকে মিছিল করে আসার পথে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধ্বস্তাধ্বস্তি। বিশেষত দলের মহিলা কর্মীদের পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলে লাল বাজারের দিকে রওনা দিতে গেলে সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে দলের কর্মীরা সেই প্রিজন ভ্যানের সামনে বসে পরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এরপর পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ বাক বিতন্ডায় জড়ান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে প্রিজন ভ্যানে তোলেন।

আজকের ঘটনায় পুলিশ যে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হয়েছে সেই ছবি সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। কারণ দফায় দফায় রাস্তায় বসে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন যা মোকাবিলায় রীতিমতো হিমসিম খেয়েছে পুলিশ। সর্বপরি সুকান্ত মজুমদার যে পূর্ব নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে অন্য ঘাটে গিয়ে গঙ্গা আরতির কর্মসূচি করে ফেলবেন তার বুঝে উঠতে সময় লেগেছে পুলিশের।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে পদ্ম শিবির এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল তা অনেকাংশেই সফল। কারণ তৃণমূলের বিরুদ্ধে তারা বারবার হিন্দু বিরোধী বলে সরব হয়। আজকের ঘটনায় সেই বিষয়টিকে আরও বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে পদ্ম নেতারা। কারণ সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন হিন্দুদের প্রতি এত ঘৃণা কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *