অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ২১ মার্চ: রুদ্রেশ মালাকার (১২), মেঘনা গুহ (২৬), শ্রেয়া গামী (২৫), মেধান্স জৈন (১৪), শ্রেয়ান ব্যানার্জি (১২) আর অভিজ্ঞান নিয়োগী (১৬)— এই ছ’জনের মধ্যে একটা বড় মিল, সকলেই ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। সোমবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ক’দিন ধরে। কারণ সোমবার ডাউন সিন্ড্রোম দিবসে দক্ষিণ কলকাতায় হবে ওঁদের মত অনেকের এক অভিনব সমাবেশ।
রুদ্রেশের মা মঞ্জিমা মালাকার অনলাইন শিক্ষিকা। এই প্রতিবেদককে বললেন, “আমরা, মানে ডাউন সিন্ড্রোমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছ’জনের বাবা-মা মিলে একটা সংগঠন তৈরি করেছি। ২০১৯-এ একটা স্বাস্থ্য শিবির করি। ‘২০-তে একটি নামী হাসপাতালের সহযোগিতায় এই রোগ নিয়ে একটা সচেতনতা শিবির করি। অতিমারির জন্য এর পর সেভাবে কোনও প্রচার অভিযান করতে পারিনি। সোমবার বিকেলে দেশপ্রিয় পার্কে হবে পদযাত্রা। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকবে নানা পোস্টার। সন্ধ্যায় হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।“
প্রসঙ্গত, জন্মগত একটি ত্রুটির কারণে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয় শিশু৷ ১৮৬৬ সালে ব্রিটিশ নিউরোলজিস্ট জন ল্যাংডন ডাউন সর্বপ্রথম এই বিষয়টি বর্ণনা করেন৷ তাই তাঁর নামানুসারে এই লক্ষণের নাম দেওয়া হয়েছে ডাউন সিনড্রোম৷
সাধারণত ভ্রুণকোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম থাকে – একটি বাবার আর আরেকটি মায়ের কাছ থেকে আসে৷ ডাউন সিনড্রোম হলে আর একটি বাড়তি ক্রোমোজম ২১ নম্বর ক্রোমোজমের জায়গায় ঢুকে পড়ে৷ যাকে ‘ট্রাইসোমি ২১’ বলা হয়৷ ৯৫ শতাংশ ডাউন সিনড্রোমই এই কারণে হয়ে থাকে বলে গবেষকরা মনে করেন৷

