সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ জুন: ঝালদা উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যেখানে আড়াই হাজার ছাত্রী রয়েছে সেখানে মাত্র ১৩ জন শিক্ষিকা রয়েছেন। এই অবস্থায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষিকার অভাব থাকায় সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু করলেও চরম সমস্যায় ঝালদার বিস্তীর্ণ এলাকার ‘কন্যাশ্রী’রা।

ঝালদা উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার অভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধ। ঝালদা উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এই রকম খবর চাউর হতেই চিন্তায় পড়েন অভিভাবক থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি অমর চ্যাটার্জি জানান, এটা উড়ো খবর, আমাদের স্কুলে ভর্তির আবেদন পত্র জমা হচ্ছে। তবে শিক্ষিকার অভাব রয়েছে স্কুলে। ৩৮ জন শিক্ষিকার মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১৩ জন শিক্ষিকা। ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। যেখানে কলা বিভাগের দর্শন ও ইতিহাসের শিক্ষিকা নেই। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিদ্যা ও রসায়ন বিষয়ের শিক্ষিকা নেই। তাই পঠন পাঠনের সমস্যা হবে।”

এবিষয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে ক্লাস শুরু হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আপাতত একাদশ শ্রেণিতে সাদা কাগজে আবেদন করতে বলা হয়েছে ভর্তির জন্য। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ জেলা শিক্ষা দফতরে জানিয়েছে। কারণ এই ভাবে পঠনপাঠন সম্ভব নয়। যদি শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করে জেলা শিক্ষা দফতর তাহলে ভালো। তা না হলে যে কজন শিক্ষিকা রয়েছেন তাঁদের দিয়ে যতটা সম্ভব ক্লাস হবে।
বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক সুখেন্দু গোস্বামী জানান, শুনেছিলাম ঝালদা উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে না।তাই আজ ৯ জুন আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি ভর্তি করতে। যাই হোক এখানে আপাতত সাদাকাগজে দরখাস্ত করেছি। এখানে শুনলাম শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। ঝালদার একমাত্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় যেখানে আমাদের মেয়েরা পড়াশোনা করে। তাই প্রশাসনকে বলবো দ্রুত স্কুলে শিক্ষিকা নিয়োগ করে সুষ্ঠভাবে পঠনপাঠন করার ব্যবস্থা করুক।

