১ আগস্ট রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি

আমাদের ভারত, ২৮ জুলাই: পাঁচ দফা দাবি সামনে রেখে ১ আগস্ট রাজ্যের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হবে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে এ খবর জানিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জুটা) তরবে জানানো হয়েছে, “গত কয়েক বছরে রাজ্যের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখানে মোট শিক্ষক পদের পঞ্চাশ ভাগই ফাঁকা। নতুন নিয়োগ নেই।

২০১১ সালের নতুন অ্যাক্টের ভিত্তিতে কোথাও নতুন স্ট্যাটিউট চালু হয়নি। কোনও বিশ্ববিদ্যালয় ইসি-কোর্টের অনুমোদন নিয়ে করতে চাইলেও বিকাশ ভবন আটকে দিয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বেনিয়মের রমরমা।

দিনের পর দিন ‘ডিফিকাল্টি রিমুভ্যাল’ ক্লজের দোহাই দিয়ে অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে। যাদের বেশির ভাগেরই ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতামান নেই। এরাই দিনের পর দিন নিজেদের বেআইনি ক্ষমতা ভোগের নেশায় স্থায়ী ডিন নিয়োগ করেননি, আইন অনুযায়ী ইসি/কোট/সিনেট সিন্ডিকেট/ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করেননি, নিজেদের পছন্দ মত হেড থেকে নানা কমিটি তৈরি করেছেন। তাঁরাই চার বছরের নতুন কোর্স চালু করার জন্য ন্যূনতম পরিকাঠামোর ব্যবস্থা না করে ছাত্র-ছাত্রীদের বিপদে ফেলে এখন ‘পদ’ হারিয়ে স্রেফ ক্ষমতায় ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।

তাঁদের অনাচারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যা হাল হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও বক্তব্য নেই। মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করে উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে সরকারের প্রতিনিধি বাড়িয়ে কীভাবে নিজেরা উপাচার্য হবেন সেদিকেই তাঁদের মনোযোগ ও দাবি।

অন্যদিকে আচার্য মহোদয় প্রাক্তন জজ, পুলিশ অফিসারদের ‘উপ-আচার্য’ পদে নিয়োগ করে শুধু আইন অতিক্রম করছেন না বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার মৌলিক আদর্শটিকেই ভেঙ্গে ফেলছেন। আমরা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনা নিয়ে বেশি চিন্তিত।

রাজ্যের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা ফেরাতে, সাধারণ বাড়ির ছেলেমেয়েদের জন্য সরকার পোষিত উচ্চাশিক্ষার সুযোগ রক্ষা করতে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচানোর লড়াই করছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।

সেকারণেই আমরা চাইছি-
১. আইনসম্মতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য ও ডিন নিয়োগ। যেখানে উপাচার্য-ডিন নেই অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিধি মেনে অস্থায়ীভাবে হলেও তাঁদের নিয়োগ করতে হবে। যেখানে উপাচার্য নিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট বিধি নেই সেখানে সারাদেশের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণভাবে বিধি তৈরি করতে হবে।
২. নতুন আইনের ভিত্তিতে স্ট্যাটিউট কার্যকর করতে হবে। আইন মোতাবেক যেখানে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব আছে সেখানে নির্বাচন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে।
৩. অবিলম্বে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য এক্সপার্ট কমিটিতে আচার্যের প্রতিনিধি দিতে হবে।
৪. বিভাগীয় প্রধান সহ অন্যান্য কমিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মানতে হবে। আইন না থাকলে আইন প্রণয়ন করতে হবে কিন্তু কোনো ভাবেই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
৫. চার বছরের আন্ডার গ্রাজুয়েট কোর্সের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগ সহ বাজেটের ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *