সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১২ ডিসেম্বর: এলাকা দখল করতে প্রথমে রক্তদান শিবির করতে বাধা, পরে এলাকায় দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে রাতভর বোমাবাজি। আতঙ্কে ঘর ছাড়ল প্রচুর গ্রামবাসী। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা থানার বামনডাঙ্গা এলাকায়। অভিযোগ, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকতেও কি করে দুষ্কৃতীরা রাতভর বোমাবাজি চালায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি গোবরডাঙ্গা থানার বামনডাঙ্গা এলাকায় একটি রক্তদান শিবির করার জন্য বৈঠক করছিল এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূলের আর এক অংশ সেই বৈঠকে হামলা চালায়। সেই ঘটনায় প্রায় ১৩ জন আহত হয়। ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারও করে। দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের ওই এলাকায় রাতভর বোমাবাজি চালায় বেশ কিছু দুষ্কৃতী।
এলাকার বাসিন্দা আলি মহম্মদ মোল্লা বলেন, এর আগে যারা রক্তদান শিবির করতে বাধা দিয়েছিল তারাই এই কাজ করেছে। এলাকায় তারাই শেষ কথা বলবে। এলাকা দখল করার চেষ্টা করছে। সেই ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকাতেও কি করে বোমাবাজি চালায় দুষ্কৃতীরা এই প্রশ্ন সকল গ্রামবাসীর মুখে। আর এক গ্রামবাসী শাহানারা বিবি বলেন, রাত সাড়ে ১১টা থেকে বোমাবাজি শুরু করে চার দুষ্কৃতী। অন্ধকারে কারও মুখ চেনা যায়নি। রক্তদান শিবির করতে যারা উদ্যোগ নিয়েছিল বেছে বেছে তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়েছে দুষ্কৃতীরা। এই আতঙ্কে অনেক গ্রামের মানুষ ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। পুলিশ থাকতেও গ্রামবাসীর উপরে হামলা চালায় কি করে?

তৃণমূলের বনগাঁর সাংগঠনিক চেয়ারম্যান শংকর দত্ত ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, খবর পেয়েছি বিজেপির কিছু লোকজন ওই এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েছি, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত এখনও পর্যন্ত জানতে পারেনি পুলিশ’।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মছলন্দপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।

