চাকরি দেওয়ার নাম করে নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় বান্দোয়ানে ডিওয়াইএফআই নেতাকে খুনের চেষ্টা, তদন্তে পুলিশ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ জানুয়ারি: বান্দোয়ানে ডিওয়াইএফআই নেতার উপর গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন জনকে নিজেদের হেফাজতে পেল পুলিশ। আজ তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সড়যন্ত্র করা এবং অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ হন সিপিএম নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে বান্দোয়ানের ঘাঘরজুড়ি মোড়ের কাছে।

কুচিয়ায় দলের একটি বৈঠক সেরে মাকপালী গ্রামে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন বান্দোয়ান এরিয়া কমিটির সদস্য কৃষ্ণপদ টুডু। তিনি ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্যও। হঠাৎ বাইকে করে এসে তিন দুষ্কৃতী তার উপর গুলি চালাতে শুরু করে। তার বাঁ হাতে দুটো এবং ডান দিকে একটি গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি জানান, “এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ছুরি ও তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি।” ধৃতদের নাম শম্ভুনাথ হেমব্রম, কার্তিক সিং, অশোক তন্তুবায়। শম্ভুনাথের বাড়ি বান্দোয়ানের চিরুগড়া গ্রামে, ওই থানার সিরকা গ্রামে বাড়ি অশোকের। এছাড়া ধৃত কার্তিকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার পটমদায়। ধৃত শম্ভু দাবি করেছে যে, ওই নেতা চাকরি দেওয়ার নাম করে আড়াই লক্ষ টাকা চুক্তি করেছিলেন। এর মধ্যে অগ্রিম হিসেবে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু চাকরি আর দেননি, টাকাও ফেরৎ দেননি তিনি। এরকম বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ওই ডিওয়াইএফআই নেতা।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, ধৃতদের মধ্যে একজনের চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক বা মাওবাদীদের যোগ নেই বলে জানা গিয়েছে। তবে, অভিযুক্তদের কাছে গুলি সহ দুটো পিস্তল কীভাবে এলো তার তদন্ত শুরু করেছি।”

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে ওই ডিওয়াইএফআই নেতা সহ অভিযুক্ত তিনজন পূর্ব পরিচিত এবং একই রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *