আমাদের ভারত, ২৯ মে: বীরবাহা হাঁসদার গাড়ির উপর কুড়মিদের হামলার ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে তদন্তের দাবি তুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায় এই ঘটনা পরিকল্পনা করেও ঘটানো হতে পারে। অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে নাটক বলে দাবি করেছেন।
রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতে কুড়মি আন্দোলনকারীদের হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই হামলা অত্যন্ত সন্দেহজনক, কারণ বীরবাহ হাঁসদার গাড়িতে হামলা হলো, অথচ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা হলো না। উনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বেরিয়ে গেলেন, তারপর বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতে হামলা হল।” সুকান্তর কথায়, এই মুহূর্তে কুড়মিরা সংরক্ষণ দাবি করছেন এবং তা নিয়ে আদিবাসী এবং কুড়মিদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তাই খুব সুন্দর পরিকল্পনা করে আদিবাসী মহিলা মন্ত্রীর গাড়ির উপরেই আক্রমণ হলো, অন্য কোনো গাড়িতে আক্রমণ হলো না।
ঘটনা সন্দেহজনক হবার জন্য আর একটা কারণের কথা উল্লেখ করেন সুকান্ত। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় বলা হয়েছে, বীরবাহা হাঁসদার গাড়ির চালকের চোখে আঘাত লেগেছে। কিন্তু এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে চালক ডান চোখ ধরে আছে, আর এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে ওই একই চালক বাম চোখ ধরে আছে। কোন চোখে লেগেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। তাই তিনি দাবি করেন, এই আক্রমণের তদন্ত হওয়া উচিত।
অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে নাটক বলে দাবি করে বলেছেন অভিষেককে নেতা করতে এই সব করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বীরবাহা হাঁসদার গাড়ি ভেঙ্গেছে? কে দেখেছে? কারা ভেঙ্গেছে? এতগুলো মিডিয়া। কারোর ক্যামেরায় গাড়ি ভাঙ্গার ছবি দেখা গেল না? সব নাটক। অভিষেককে নেতা করার জন্য ইচ্ছা করে গাড়ি ভেঙ্গে এইসব নাটক করা হচ্ছে। এভাবে কেউ নেতা হতে পারে না। ”
বীরবাহার গাড়ি ভাঙ্গার ঘটনায় মু্খ্যমন্ত্রী বলেছেন একটা আদিবাসী মেয়ের গাড়ি ভাঙ্গা হয়েছে। তার পাল্টায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “তার গাড়ি ভেঙ্গে মমতা ব্যানার্জি বলছে, আদিবাসী মেয়ে। দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন কেন ভোট বয়কট করেছিলেন? তখন উনি আদিবাসী ছিলেন না?”

